বাকৃবিতে ছাত্রী লাঞ্ছনা-সাংবাদিক মারধরের ঘটনা

২০ দিনেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি, অতিরিক্ত সময় চায় কমিটি

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২২, ১৫:৪২

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে ছাত্রী লাঞ্ছনা ও ২৮ মার্চ ছাত্রলীগ কর্তৃক গাড়ি ভাঙচুর ও সাংবাদিক মারধরের অভিযোগে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। তবে তদন্ত কমিটি গঠিত হওয়ার পর ১০ কার্যদিবস পেরিয়ে ২০ দিন যাওয়ার পরও তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। এদিকে প্রতিবেদন তৈরিতে আরও সময় চায় তদন্ত কমিটি। 

তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার বিষয়ে তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফুল হক বলেন, ‘তদন্তের সময় আমরা সাংবাদিক, ছাত্রলীগ এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে এ পর্যন্ত ৭ বার মিটিং করেছি। আমরা সত্য উদঘাটন করার চেষ্টা করছি। অনেকেই আবার আবেদন করেছে এবং অনেকের নাম তুলে ধরেছে। আমরা প্রত্যেকের সাথে কথা বলার চেষ্টা করছি। সে কারণে বেশি সময় লাগছে। তবে কতদিনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো সেটি বলতে পারছি না। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আমাদের অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন, এ বিষয়ে আমি মৌখিকভাবে আবেদন করেছি।’

১০ কার্যদিবস হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদন গত ১১ এপ্রিল রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেওয়ার কথা ছিল। তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ছাইফুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন আমার কাছে জমা দেওয়ার কথা কিন্তু এখনো প্রতিবেদন হাতে পাইনি।’ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময়ের আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোন আবেদন পাইনি আমি।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হককে সভাপতি ও সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন, সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম এবং প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. চয়ন গোস্বামী।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি যতদূর জানি তাদের আরও কয়েকটি মিটিং প্রয়োজন। রোজার মধ্যে হওয়ায় হয়ত কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। আমি তদন্ত কমিটির আহ্বায়ককে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য জানিয়ে দিচ্ছি।’

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ গাড়ি ভাঙচুরের ভিডিও ধারণ করার সময় ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হন বাকৃবি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আবদুল্লাহ ওমর আসিফ। ঘটনায় জড়িত ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুল হক হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহীন সুমনসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী। ওই ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দাবি করে ২৯ মার্চ প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক।

 

ইত্তেফাক/এসজেড