বরিশালে মীরগঞ্জ খেয়াঘাট নিয়ে জেলা পরিষদ-প্রশাসন বিরোধ

আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ২২:৪৫

বরিশাল জেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রণাধীন মীরগঞ্জ-মুলাদী খেয়াঘাট নিয়ে বরিশাল জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। বিগত কিছুদিনের ঘটনাপ্রবাহে বিষয়টি প্রকট হয়ে উঠেছে।

জনগুরুত্বপূর্ণ মীরগঞ্জ-মুলাদী খেয়াঘাটটি সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্ত করতে বরিশাল জেলা পরিষদ সম্প্রতি নানামুখী উদ্যোগ নেয়। ১৪২৬ বঙ্গাব্দের জন্য ঘাটটি ইজারার জন্য ছয়বার দরপত্র আহবান করা হলেও একটি সিন্ডিকেট আগের চেয়ে অর্ধেক মূল্যের দরপত্র আহবান করে। ৭ম বারের দরপত্রে নতুন ইজারাদার সর্বোচ্চ ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার দরপত্র দাখিল করলে জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মতামতের জন্য গত ১৬ মে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পূর্বের ইজারাদার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মতামত না আসা পর্যন্ত পূর্বের ইজারাদারের মাধ্যমে খেয়াঘাটের খাস কালেকশন আদায় করে। যাত্রী জিম্মি করে পাঁচ/ছয়গুণ বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠলে ১ জুন থেকে জেলা পরিষদের তিনজন সদস্য ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে খাস কালেকশন আদায়ের সিদ্ধান্ত হয় এবং সিন্ডিকেট ভেঙে বাবুগঞ্জের মীরগঞ্জ থেকে ঘাট সরিয়ে মুলাদীতে স্থানান্তর করা হয়। বরিশাল জেলা পরিষদ থেকে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পালনের প্রথমদিনেই বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিত হালদার মুলাদী প্রান্তে গিয়ে আট টাকার স্থলে ১০ টাকা ভাড়া আদায়ের অভিযোগে জেলা পরিষদের কেয়ারটেকার ওয়াহিদুল ইসলাম ১৫ দিন এবং মীরগঞ্জ গ্রামের রিয়াজুল ইসলামকে ১০ দিন কারাদণ্ড প্রদান করেন। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ না করে জেলা পরিষদ কর্মচারীকে কারাদণ্ড দেওয়ায় ঘাটের খাস কালেকশনে জটিলতা দেখা দিয়েছে। ঘাটের দায়িত্বরত জেলা পরিষদ সদস্যগণ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে খাস কালেকশনে অনীহা প্রকাশ করছেন।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মানিকহার রহমান বলেন, মীরগঞ্জ প্রান্তে ঘাটটি থাকার সময় ইজারাদার কর্তৃক যাত্রী জিম্মি করা ও পাঁচ/ছয়গুণ বেশি টাকা নেওয়ার বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বারবার চিঠি কিংবা ফোন দিলেও তিনি কোনো ধরনের অভিযান চালাননি। অথচ জেলা পরিষদের তিনজন সদস্যসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যখন নিয়মশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিল তখন এ ধরনের অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ। এ ব্যাপারে জেলা পরিষদ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরো বলেন, কোনো সরকারি কর্মচারীকে আটকের আগে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের বিধান রয়েছে। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেআইনীভাবে অপর উপজেলা মুলাদী প্রান্তে গিয়ে এ ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন। ঘাটের খাস কালেকশন আদায়ে সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা জেলা পরিষদ সদস্য মো. জিল্লুর রহমান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তিনিসহ জেলা পরিষদের অপর সদস্যরা জানতে পেরেছেন বাবুগঞ্জের ইউএনও পূর্বের ইজারাদারদের কাছ থেকে মাসোয়ারা পেয়ে আসছিলেন। খাস কালেকশন আদায়কারীদের কাছে মাসোয়ারা চেয়ে তা না পেয়ে তিনি এ ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ অভিযান পরিচালনা করেছেন। প্রশ্নবিদ্ধ অভিযান, জেলা পরিষদ কর্মচারীকে কারাদণ্ড ও জেলা পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায়  জিল্লুর রহমান মিয়া মামলা দায়ের করবেন বলে জানান।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিত হালদার তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এর আগেও তিনি একাধিকবার খেয়াঘাটে অভিযান পরিচালিত করেছেন। সে সময়ে কোনো অভিযোগকারী না পাওয়ায় ইজারাদার ও তার লোকজনকে সতর্ক করা হয়। শনিবারের অভিযানে আট টাকার স্থলে ১০ টাকা ভাড়া নেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় একজনকে ১৫ দিনের ও অপরজনকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, মীরগঞ্জ খেয়াঘাটে বাড়তি ভাড়া আদায় হচ্ছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত যে কোনো প্রান্তেই অভিযান পরিচালিত করতে পারে। মুলাদী ঘাটে অনিয়ম পেয়েই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।