দেশের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখী ঝড়

হাওরের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২২, ০৮:২৮

সীমান্তবর্তী হাওর অধ্যুষিত জেলা সুনামগঞ্জ, সিলেট, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনায় রাতভর বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে পাহাড়ি ঢল পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই পাহাড়ি ঢল ও লাগাতার বৃষ্টিপাতে হাওরের বিভিন্ন বাঁধ ভেঙে শতকোটি টাকার ফসল পানিতে ডুবে গেছে। ফসল হারানোর হাহাকার করছেন হাওর এলাকার মানুষ। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে ভারতের বিহার রাজ্য থেকে একটি শক্তিশালী কলাবৈশাখী ঝড় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে বাংলাদেশের প্রবেশ করে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়। একইসময়ে ভারতের মেঘালয় পর্বতের উপরে সৃষ্ট চলমান ঝড় রাত ৩টা থেকে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই ঝড়ের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাতেও বুধবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়।

আবহাওয়াবিদ ও গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ ইত্তেফাককে বলেন, এখন পর্যন্ত এই বছরের বৈশাখ মাসের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী ঝড় এটি। বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে হাওরাঞ্চলের বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের আরও অবনতি ঘটবে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস নির্দেশ করে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, দেশের আটটি জেলার ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস রয়েছে। এক্ষেত্রে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি কমে গিয়ে তাপপ্রবাহ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানান, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থান করছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং কুমিল্লা অঞ্চলসহ রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বিজলী চমকানো ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে।

এতে আরও বলা হয়, রাজশাহী, পাবনা, যশাের ও রাঙ্গামাটি অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা প্রশমিত হতে পারে। কেননা, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। ঢাকায় দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ থাকবে ১০-১৫ কিলোমিটার, যা অস্থায়ীভাবে দমকা আকারে পশ্চিম উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওঠে যেতে পারে।

বৃৃহস্পতিবার নাগাদ আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ায় তাপমাত্রা ফের বাড়বে। এছাড়া দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা, বগুড়া, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে, ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে সৈয়দপুরে, ৪১ মিলিমিটার। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

ইত্তেফাক/এসটিএম