মুক্তিপণে ফেরত মেলে গরু, নতুবা জবাই

আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ২২:৪৭

সুনামগঞ্জের হাওরের প্রত্যন্ত এলাকায় গরু চোরের উপদ্রব বেড়েছে। এসব গরু চোরদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও এদের উত্পাত থামছে না। কোনো সময় ধরা পড়লেও জেল থেকে বেরিয়ে এসে আবার একই কায়দায় তারা গরু চুরি করে। এই অবস্থায় এলাকার কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. বরকত উল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, সারা জেলায়ই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গরু চোর আছে। কিন্তু গরু চুরি হলে মালিক পুলিশের নিকট না এসে চোরদের সাথে আপোষ করে ফেলে। তবে পুলিশ এদের ধরতে সব সময় তত্পর। পুলিশ সুপার বলেন, অভিযোগ পেলেই পুলিশ অভিযান চালায়। তিনি কারো গরু চুরি হলে পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়ন থেকে চুরি হওয়া   দুটি গরুসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চালবন পয়েন্টে থেকে একটি মিনি ট্রাক ও দুইটি গরুসহ তাদের আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা হচ্ছে- বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মধ্যকাফনা এলাকার বাচ্চু মিয়া (৩৭), খুরশেদ মিয়া (৩৭), দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বুগলাখারা এলাকার আতাবুর রহমান (২০) ও জামালবাগ এলাকার শমর মিয়া সোহাগ মিয়া (২০)। সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. শহিদুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কিছুদিন আগে গৌরারং এলাকার একজন কৃষকের দুটি গরু চুরি হয়। পরে থানায় দায়েরকৃত জিডির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

এলাকাবাসী জানান, রাতের আঁধারে গোয়ালঘর থেকে বা দিনেরবেলায় হাওর থেকে সংঘবদ্ধ চোরেরা গরু চুরি করে নিয়ে যায়। পরে তারা মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে কৃষকের গরু ফেরত দেয়। মুক্তিপণ না দিলে তারা ঐ গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করে টাকা পকেটে পুরে নেয়। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী জানান, সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ, জগন্নাথপুর, ছাতক ও সিলেটের বিশ্বনাথ এলাকায় একাধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা গরু চুরির সাথে জড়িত। এরা সারা বছর গরু চুরি করে থাকে। তাবে বিশেষ করে কুরবানির ঈদে এরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

সূত্র জানায় কয়েকদিন আগে জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামের কৃষক ফজলুল হকের ছয়টি গরু চুরি হলেও আজো কোনো হদিস পাননি তিনি। সংঘবদ্ধ চোরদের নেটওয়ার্ক বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে বিস্তৃত। বৈশাখে চোরেরা মাছের পোনা মারার ছল হাওর থেকে চৌকস গরুগুলো তাদের গোপন আস্তানায় তাড়িয়ে নিয়ে যায়। পরে তারা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না পেলে কয়েকদিন পর জবাই করে মাংস বিক্রি করে।

গত ১৯ মে সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার মকবুল হোসেন-সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। জামালগঞ্জ সার্কেলের এএসপি (সার্কেল) বাবুল  আক্তার জানান, তার কাছে এরকম কোনো সংবাদ নেই। তিনি দ্রুত এ সম্পর্কে খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান।

সূত্র জানায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের থলেরবন্দ গ্রামের সংঘবদ্ধ ও সাজাপ্রাপ্ত একদল চোরের নেতৃত্বে হাওর এলাকার গ্রামগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। হেমন্তে গরু চুরি, বর্ষায় নৌকা চুরি, ঘর চুরি এদের অন্যতম পেশা হয়ে উঠেছে। অভিযোগে উল্লেখিত থলেরবন্দ গ্রামের চিহ্নিত চোরদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলাও রয়েছে।