ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। সেই খুশির মাত্রা বেড়ে যায় ঈদে নতুন জামা-কাপড় পেলে। কেমন হয় যদি কিছু অস্বচ্ছল পরিবারের শিশুদের এবারে ঈদ আনন্দে বাড়তি আনন্দ জুড়ে দেওয়া যায়? দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(হাবিপ্রবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ সেই কাজটিই সম্পন্ন করেছে সফলভাবে।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) বিভাগটি আয়োজন করে ‘চাঁদের হাসি’ অনুষ্ঠানের। ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের লেভেল-২, সেমিস্টার-১ এর 'এনজিও এন্ড ডেভলপমেন্ট ম্যানেজমেন্ট' কোর্সের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা উক্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে । এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রকল্প তহবিল সংগ্রহ এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জন করেন।
একজন শিশুর ঈদে নতুন জামা প্রাপ্তির আনন্দে নির্মল হাসিই ‘চাঁদের হাসি’। এই থিমকে কেন্দ্র করে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকার গরীব, অসহায় ও দুস্থ পরিবারের শিশুদেরকে নতুন জামা প্রদানের মাধ্যমে শিশুদের মাঝে ইদের আনন্দ ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ‘চাঁদের হাসি’ প্রকল্পটি গ্রহণ করে। এ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীরা তহবিল সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রোগ্রামের অংশগ্রহণকারী (শিশুদের) নির্বাচন, ইদের পোশাক কেনা ও বিতরণসহ সার্বিক কাজটি নিজস্ব দক্ষতা এবং ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চাঁদগঞ্জ, ডাঙ্গাপাড়া, কর্নাই সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে শিক্ষার্থীরা ৬০টি প্রকৃত দরিদ্র পরিবারের শিশু খুঁজে বের করে তালিকা করেন এবং সে অনুযায়ী তহবিল সংগ্রহ করেন। আর সেই তহবিল থেকেই মূলত শিশুদেরকে ঈদের জামাকাপড় কিনে দেওয়া হয়।
ইদের পোশাক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ইয়াছিন প্রধান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুর রশিদ পলাশ এবং উক্ত বিভাগের চেয়ারম্যান, সহযোগী অধ্যাপক হাসান জামিল, ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহবুব চৌধুরী এবং উক্ত বিভাগের ও এনজিও অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোর্সের কোর্স শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মো. জুয়েল আহমেদ সরকার। উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে থেকে সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুর রশিদ পলাশ বলেন, 'বাস্তবে চাঁদের হাসি ম্যাটাফরিক হলে আজকে আমার সামনে অনেকগুলো চাঁদের হাসি দেখতে পাচ্ছি। তাত্ত্বিক শিক্ষার এমন মানবিক প্রয়োগ সত্যিই প্রশংসার দাবীদার।'
অনুষ্ঠানের আরেক অতিথি ইয়াসিন প্রধান বলেন, 'আজকের উদ্যোগটি একটি ভিন্নধর্মী এবং বেশ মানবিক একটি উদ্যোগ। এমন উদ্যোগে আসতে পেরে আমি বেশ খুশি। এসময় তিনি উদ্যোগের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান।'
প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের সাথে জড়িত শিক্ষার্থী তুষার বলেন, 'ক্লাসরুমে বসে পড়াটা আমার যতোদিন না মনে থাকবে তারচেয়ে বরং আমাদের এই হাতেকলমে করা প্রজেক্টটি সারা জীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে। আমাদের সব টিম মেম্বার অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে।' ভবিষ্যতে এমন প্রায়োগিক আয়োজন সব কোর্সেই দেখতে চান প্রকল্প সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা।
‘চাঁদের হাসি’ উদ্যোগের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কোর্সের কোর্স শিক্ষক মো. জুয়েল আহমেদ সরকার বলেন, 'উন্নয়নকে শুধু তাত্ত্বিকভাবে বোঝার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে এর পুরো বৈচিত্র্যকে উপলব্ধি করা সম্ভব নয় এর জন্য এটিকে প্রায়োগিকভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন এবং আমাদের চারপাশের মানুষের সমস্যায় সহমর্মিতা দরকার। আমি এবং আমার শিক্ষার্থীরা এই কাজটিই করার চেষ্টা করেছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা আমার প্রত্যাশার চাইতেও বেশি শ্রম দিয়েছে এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করতে। আমি তাদেরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।'
