অপচয়কারী শয়তানের ভাই

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৮, ২২:০০

প্রয়োজন নেই, তবু গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে। ছাদের উপর রাখা ট্যাঙ্কি থেকে পানি পড়ছে। মোটর কখন ছেড়েছেন তা বাড়িঅলা ভুলেই গেছেন। পানিতে রাস্তা তলিয়ে গেছে। পথচারীদের চলাচলে অসুবিধার শেষ নেই। খেতে পারবেন এক প্লেট, অথচ তিন প্লেট খাবার নেওয়া হলো। পরে সব খাবার নষ্ট হলো। এমনিভাবে আমাদের প্রত্যহিক জীবনে অপচয়ের শেষ নেই। অথচ প্রকৃত মুসলমান অপচয় করতে পারেন না। রাসুল (স) ও সাহাবিরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ রাখতেনই না। সব দান করে দিতেন। অপচয়ের তো প্রশ্নই ওঠে না।

অপচয়কারীর পরিণাম পৃথিবীতে তো বটেই, আখেরাতেও ভালো নয়। ভয়ানক আজাব তার জন্য অপেক্ষমাণ।  আল কোরআনে বলা হয়েছে,  ‘নিশ্চয় আল্লাহ অপচয়কারী ও মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না।’ সুরা মুমিন, আয়াত-২৮। এ ছাড়া বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত-২৬। খাবার যেমন কম খাওয়া উত্তম, তেমনি খাদ্যের অপচয় করা যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আহার করো ও পান করো; কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।’ সুরা আরাফ, আয়াত ৩১। অপচয় সম্পর্কে মহানবী (স) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা অপচয়কারীকে অভাবগ্রস্ত করেন।’ আসলে অপচয়কারী আল্লাহর দেওয়া অনুগ্রহের ব্যাপারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। অপচয় করে। পরবর্তীতে নিজের করুণ পরিণতি নিজেই ডেকে আনে। ইমাম সাদেক (রা) এর মতে, চার শ্রেণির মানুষের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন না। তার মধ্যে একটি শ্রেণি হলো বিনা কারণে যারা অর্থ অপচয় ও অপব্যায় করে। মূলত ইসলাম মধ্যম পন্থাকে সমর্থন করে। হাত গুটিয়ে রাখা যাবে না। আবার পুরো প্রশস্তও করা যাবে না। যতটুকু দরকার ততটুকু সম্পদের ব্যবহার করতে হবে। অর্থ ব্যয়েও মধ্যম পন্থা অবলম্বন করতে হবে। আল্লাহ বলেন ‘এবং (কৃপণের মতো) তোমার হাতকে তোমার ঘাড়ের নিকট গুছিয়ে রেখো না এবং (অপচয়কারীর মতো) তোমার হাতকে পুরোপুরি প্রশস্ত করে দিও না।’ সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত-২৯। মসজিদে অজু করতে পয়সা লাগে না। পানি ব্যবহার ফ্রি। তাই বলে অজু করছেন আর ওদিকে কল ছাড়া। পাশের লোকের সাথে গল্প চলছে। পানি পড়েই যাচ্ছে। কোনো খেয়ালই নেই। অজুতে পানির অপচয় তো নয়ই, পানি বেশি ব্যবহার করার অনুমতি ইসলামে নেই। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুল (স) সাদ (রা) এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় সাদ (রা) অজু করছিলেন। তাঁর অজুতে পানি বেশি খরচ হচ্ছিল। রাসুল (স) তা দেখে বলেন, কেন এই অপচয়? সাদ (রা) জিজ্ঞেস করেন, অজুতেও কি অপচয় হয়? রাসুল (স) বলেন, হ্যাঁ, এমনকি প্রবহমান নদীতে অজু করলেও। ইবনে মাজাহ ৪২৫।

lলেখক :বেসরকারি চাকরিজীবী ও ইসলামি গবেষক