মুটিয়ে যাওয়া বা স্থূলতা কিংবা ওবেসিটি আধুনিক বিশ্বের নাগরিকদের একটি অন্যতম সমস্যা। পৃথিবীতে এই সমেয় প্রায় ৯০ কোটি মানুষ স্থূলতার সমস্যায় ভুগছেন। শুধু তাই নয়, যারা মোটা তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
আমাদের দেশে স্থূলকায় লোকের সংখ্যা তেমন একটা বেশি না হলেও অতিরিক্ত ওজনের লোক কিন্তু একেবারে কমও নয়। তুলনামূলক হিসাব কষলে শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্থূলতার সমস্যা দিনকে দিন বাড়ছে। পাশাপাশি ত্রিশের আগে অনেক মেয়েই মুটিয়ে যাচ্ছেন। ছেলেরা যে খুব পিছিয়ে মোটা হতে, তাও না।
অতিরিক্ত মোটা হলে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়বেই। হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কয়েক ধরনের ক্যানসার এবং অস্টিওআর্থারাইটিস রোগের ঝুঁকিও থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের স্থূলতার নেপথ্যে বেশ কিছু কারণ আছে। এই কারণগুলো বেশ পরিচিত। জেনে নিন সেগুলো কী।
সকালের নাস্তা না করা: অনেক তরুণ-তরুণী আছেন যারা ব্যস্ততার অজুহাতে সকালের নাস্তা করেন না কিংবা অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকায় দেরি করে নাস্তা করেন। অনেকে তো আবার সকালের খাবার দুপুরে খেয়ে থাকেন। এর আবার আলাদা করে ‘ব্রাঞ্চ’ নামও দেওয়া হয়েছে। যদি মোটা হতে না চান, তাহলে সকালে পুষ্টিকর নাস্তা সঠিক সময়ে করবেন।
অতিরিক্ত তেল, মসলাযুক্ত ভাজাভুজি খাবার: রমজানে অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত ভাজাভুজি খাবার কমবেশি সবাই খেয়ে থাকেন। ইফতারে অতিভোজন হয়ে যায়। চেষ্টা করবেন রেস্টুরেন্টের তেলে ভাজা তেহারি, বিরিয়ানি, হালিম, কাটলেট, কাবাব না খেতে। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবারও এড়িয়ে চলুন। চানাচুর, চাউমিন, সিঙ্গারা, পেঁয়াজি, ছোলা ভুনা খাওয়া থেকেও বিরত থাকুন।
নিজেকে অ্যাকটিভ রাখতে হবে: নাগরিক জীবনে কমেছে হাঁটাহাঁটির অভ্যাস। অল্প হাঁটার পথও আমরা রিকশা ভাড়া করে যাই। স্থূলতার সমস্যায় না পরতে চাইলে প্রতিদিন নিয়ম করে শরীরচর্চা করার পাশাপাশি অ্যাকটিভ থাকার চেষ্টা করুন এবং প্রাণবন্ত থাকুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করবেন। ঘরের কাজ তো নিজে করবেনই, এমনকি ফোনে কথা বলার সময় বসে না থেকে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করার অভ্যাস করুন।
রাত জাগাকে ‘না’ বলুন: কারণ ছাড়াই শুধু শুধু রাত জাগা তরুণ-তরুণীদের সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। অতিরিক্ত রাতজাগার কারণে শরীরে নানা রকম প্রভাব পড়তে পারে। ক্ষুধামান্দ্য, বিষণ্নতা, স্নায়ুবৈকল্যর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, রাতের খাবার দেরি করে খেলে ও গভীর রাত পর্যন্ত জাগলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
হরমোনের সমস্যা: ওজন বাড়ার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে হরমোনের সমস্যা। অনেকেরই হয়তো দেখা যাবে এক বছরের মধ্যেই খুব বেশি ওজন বেড়ে গিয়েছে। খাবারদাবার নিয়ন্ত্রণ করেও সমস্যা কমছে না। সেক্ষেত্রে হরমোনের সমস্যা হতে পারে। এ রকম হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।
