দাকোপে কৃষি খাতে নারী শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২২, ০৩:০৩

সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় উপজেলা দাকোপের কামারখোলা ইউনিয়নে বিস্তৃত মাঠ জুড়ে তরমুজ খেতে পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি তপ্ত রোদে কাজ করছে নারী শ্রমিকরা। এই তরমুজ খেতে কাজ করেই নারী শ্রমিকদের পরিবারে এসেছে আর্থিক সচ্ছলতা। নারীরা এখন আর কোনো কাজেই পিছিয়ে নেই। পুরুষের পাশাপাশি কৃষি কাজেও নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

ঘরের কাজের পাশাপাশি কৃষি কাজেও পুরুষের সঙ্গে সমান তালে কাজ করছেন নারী শ্রমিকরা। এক সময় গ্রামীণ জনপদে শুধু পুরুষরাই মাঠে কৃষি কাজ করতেন। নারীরা রান্নাবান্না আর সন্তান লালন-পালন নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই পালটে গেছে।

সম্প্রতি দাকোপের কামারখোলা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ কৃষকদের পাশাপাশি কৃষানিরা তরমুজের বীজ রোপণ করছেন। চৈত্রের তপ্ত রৌদ আর দাবদাহের মধ্যেও কৃষানিদের মুখে ঝরছে খুশির ঝিলিক। সারা দিন তরমুজ খেতে বীজ রোপণ করে এক একজন কৃষানি ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। এই তরমুজ খেতে কাজ করেই তাদের পরিবারে এসেছে আর্থিক সচ্ছলতা।

কৃষানি শীলা শীল বলেন, আজ থেকে কয়েক বছর আগেও আমার সংসারে খুব অভাব ছিল। শুধু স্বামীর আয়ে সংসার ভালোভাবে চলত না। অনেক দিন দুই বেলা খেতেও পারতাম না। এক ছেলে আর দুই মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে কেটেছে।

তিনি বলেন, তরমুজ খেতে কাজ করে প্রতি ঘণ্টায় ৬০ টাকা করে পাই। দিনে ছয়-সাত ঘণ্টা কাজ করে প্রতিদিন ৪৫০-৫০০ টাকা আয় হয়। এখন আর টাকার জন্য স্বামীর কাছে হাত পাততে হয় না। টাকা আয় করতে পারি বলে সংসারে আমার কথার গুরুত্বও বেড়েছে।

কৃষানি হালিমা বেগম জানান, তিনি ফেব্র‚য়ারি থেকে এপ্রিল এই তিন মাস তরমুজের খেতে কাজ করেন। প্রতি ঘণ্টায় তিনি ৬০ টাকা করে পান। প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা কাজ করে ৪৫০-৫০০ টাকা আয় করেন। তিনি বলেন, স্বামীর আয় আর তার আয় দিয়ে তাদের সংসার ভালোভাবেই চলে যাচ্ছে।

কৃষানি কল্যাণী শীল বলেন, তিনি প্রতিদিন সাত থেকে ৯ ঘণ্টা তরমুজ খেতে কাজ করেন। কাজ শেষে ঘণ্টাপ্রতি ৬০ টাকা করে মজুরি নিয়ে বাড়ি ফেরেন।

তিনি বলেন, তারা সংসারে মোট ছয় জন। এর মধ্যে তিন জন প্রতিদিন তরমুজ খেতে কাজ করেন। ফেব্র‚য়ারি থেকে এপ্রিল এই তিন মাস তাদের সংসারে খুব একটা অভাব থাকে না।

তরমুজ খেতের মালিক মো. শহীদ গাজী বলেন, তারা এবার ২৫ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তাদের তরমুজ খেতে পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও কাজ করছেন। 

তিনি বলেন, নারী শ্রমিকরা কাজে ফাঁকি দেয় না। কাজ ফেলে তারা গল্পগুজবও করে না। দিন শেষে একেক জন নারী শ্রমিকরা ৫০০-৬০০ টাকা নিয়েও বাড়ি যায়।

কামারখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পঞ্চানন কুমার মণ্ডল বলেন, কামারখোলা ইউনিয়নের কম-বেশি প্রায় সব বাড়ির নারীরাই তরমুজ খেতে কাজ করেন। তারা একেক জন প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকা আয় করেন। এ আয়ে তাদের সংসার খুব ভালোভাবেই চলে যাচ্ছে। নারীরা আয় করতে পারছে বলে সংসারে তাদের গুরুত্বও বেড়েছে।

দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান বলেন, এ বছর দাকোপ উপজেলায় ৭ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। একেকটি খেতে গড়ে পাঁচ জন নারী শ্রমিক কাজ করছেন। এ হিসাবে দাকোপ উপজেলায় ২০ হাজারের বেশি নারী শ্রমিক তরমুজ চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। তিনি বলেন, নারীদের আয়ের কারণে তাদের সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ