ছাতকে বাঁধ ভেঙে হাওরে ঢুকেছে পানি

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২২, ০৪:৪৭

শুক্রবার আকাশ মেঘে ঢেকে যাওয়ায় কৃষকরা অস্বস্তিতে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় বাঁধ ভেঙে ফাটার হাওরে পানি প্রবেশ করেছে। ভাতগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাস্টার আওলাদ হোসেনের বরাত দিয়ে ছাতক সংবাদদাতা আবদুল আলিম জানান ছাতক, জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩৫ গ্রামের মানুষের স্বপ্ন শেষ। ৩ হাজার একরের অধিক ফসল তলিয়ে গেছে। বাঁধ মেরামতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও রক্ষা হয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, সব ফসল এখনো তলিয়ে যায়নি। অনেকই ফসল কেটে ঘরে তুলেছেন। ক্ষতির পরিমাণ কম হবে। একই দিন দিরাই ও জগন্নাথপুরে দুটি হাওরে পানি ঢুকেছে। কালনী নদীর তীর উপচে বিশাল বরাম হাওরে পানি ঢুকলে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।

এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান গত বৃহস্পতিবার শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করে বলেন, আগামীতে যাতে বোরো ফসল হুমকিতে না পড়ে সরকার সেই পরিকল্পনার পথেই হাঁটছে। এদিকে সুরমা, যাদুকাটা, পাটনাই নদীর পানি অনেক কমেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশল মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেছেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে কিছু বৃষ্টি হচ্ছে। তবে তা সুনামগঞ্জ জেলার নদীর ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না। কয়েক দিন আবহাওয়া এরকম যাবে। হালকা বৃষ্টিও থাকতে পারে।

রাতেও ধান কাটা হচ্ছে: কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম ইত্তেফাককে জানান, ‘তাহিরপুরসহ কয়েকটি হাওরে রাতেও ধান কাটা হচ্ছে কামবাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে। শুক্রবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১১ হেক্টর জমির ফসল কর্তন হয়েছে। ধান কাটার হার ৬৪ ভাগ।’

তবে কৃষকরা বলছেন, অধিকাংশ এলাকার ধান পাকেনি বলে অনেকেই ধান কাটতে পারছেন না।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার ধনপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো.আবরু মিয়া ইত্তেফাককে জানান, এবার ব্রিধান-২৮ এ ভালো হয়নি। ধানে চিটা। তবে ব্রি-ধান-২৯ ভালো হলেও ধান পাকে নাই।

শনির হাওরে ধান পাকতে দেরি:

তাহিরপুরের ৭ হাজার ৯ শত হেক্টরের শনির হাওরে ধান কাটা পড়তে আরো অন্তত ১০ দিন লাগবে—বলেন হাওর ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা। তিনি বলেন, ভয়ে কোন কোন স্থানে কাঁচা-পাকা ধান কেটছেন কৃষক। স্থানে স্থানে বাঁধ ভাঙার উপক্রম।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রায়হান কবির জানান, ‘কৃষক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে দিন রাত পাহারা বসিয়েছেন বাঁধে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আসাদুজ্জামান সেলিম বলেন, যেসব বাঁধ নদী বা জলাশয়ের তীর ঘেঁষে আছে সেগুলো বেশি ঝুঁকিতে।

ইত্তেফাক/বিএএফ