বাঘার চরাঞ্চলে পানিবন্দী ২০ হাজার মানুষ, ৮ বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের ছুটি ঘোষণা

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩১

বিগত এক সপ্তাহ ধরে রাজশাহীর বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়নে পদ্মার মধ্যে থাকা ১৫টি চরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। পানি ঢুকে পড়ায় চরাঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরাও।

এমতাবস্থায় অনির্দিষ্টকালের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে ছয়টি সরকারি প্রাথমিক ও দুটি উচ্চ বিদ্যালয়ে।

গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে এ ছুটি কার্যকর হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়া হলেও বিদ্যালয়গুলোর দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে। শিক্ষকদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আজ পদ্মার পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি চরবাসীর। বিশেষ করে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। বন্যার পানিতে আতারপাড়া, চৌমাদিয়া, দিয়াড়কাদিপুর, উত্তর ও দক্ষিণ কালিদাসখালী, পশ্চিম ও পূর্ব চকরাজাপুর, দাদপুর, পলাশি ফতেপুর, নিচ পলাশি ফতেপুর, জোতাশী, লক্ষ্মীনগর, কালিদাসখালী, আমবাগান ও কলাবাগানসহ বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও পলাশি ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী পানিবন্দী। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় জেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস বিদ্যালয় দুটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ফলে চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, পশ্চিম চর কালিদাসখালী, পলাশি ফতেপুর, লক্ষ্মীনগর ও চর কালিদাসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয়ে যেতে না পারায় স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে পলাশি, চকরাজাপুর ও পূর্ব চকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যাকবলিত না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মামুনুর রহমান বলেন, পদ্মার চরে নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ছয়টিতে শিক্ষার্থীদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি তিনটি বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এসময় চকরাজাপুর ও পলাশি ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয় বন্ধ রাখার বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাফর আলী।

চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসান সিকদার বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে পানির মধ্যে বসবাস করছি। ঘর থেকে বাইরে বের হতে পারছি না। ঘরের মধ্যে মাচা করে বসবাস করছি। এমন অবস্থায় কীভাবে স্কুলে যাব? তাই স্যারেরা স্কুল ছুটি দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক সোহেল রানা বলেন, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা পানির কারণে বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চরাঞ্চলের মানুষ চরম দুর্দশার মধ্যে বসবাস করছেন। তাঁদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’ 

পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ও সুহৃদ ব্যক্তিদেরও চরাঞ্চলের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

 

 

ইত্তেফাক/এনটিএম