কাঁঠালবাড়ি ঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৯, ১০:৪৮

সোমবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ‘ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী কাঁঠালবাড়ি ঘাটে’ ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। মুন্সীগঞ্জ থেকে ফেরি, লঞ্চ বা স্পিডবোটে পদ্মা পার হয়ে ঘরে ফিরছে দক্ষিণ-পশিচমাঞ্চলের ২১ জেলার হাজার হাজার মানুষ।বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটে ভিড়ও বেড়ে চলেছে।

 

ঘরমুখো মানুষ যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে সেজন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ঈদযাত্রায় প্রতিবারের মতো দুর্ভোগ না থাকায় খুশি যাত্রীরা।

 

বিআইডব্লিউটিসির ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী কাঁঠালবাড়ি ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুল সালাম জানান, নাব্য সংকট না থাকায় এবার বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হচেছ। যাত্রীদের সুবিধায় ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীদের সেবা দিতে ১৮টি ফেরি, ৮৭টি লঞ্চ ও দুই শতাধিক স্পিডবোট এ নৌরুটে চলাচল করছে।

 

ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী কাঁঠালবাড়ি লঞ্চ ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন জানান, ১ জুন  সকাল থেকেই পুরাতন কাওড়াকান্দি ঘাটটি  চালু করা হয়েছে। কাঁঠালবাড়ি ঘাটে শুধু লোকাল যাত্রীদের লঞ্চ রয়েছে। পদ্মা পার হয়ে অনেকটা স্বাচ্ছন্দে যাত্রীরা ঘাটে নেমে গন্তব্যের পরিবহনে উঠতে পারছেন।

 

ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী কাঁঠালবাড়ি ঘাটের পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) উত্তম কুমার শর্মা জানান, এবার নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। রাস্তাঘাট যানজটমুক্ত রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

আরো পড়ুন : ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ভাল, তবে বিজেপি অপব্যবহার করছে: মমতা

শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, এখানে দক্ষিণ অঞ্চলের ২১টি জেলার ঘরমুখি যাত্রী পারাপার হচ্ছে। বর্তমানে ঘাট এলাকার পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। কোনো পরিবহন ছাদে যাত্রী নিচ্ছে না। পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘাট এলাকায় আমাদের মোবাইল কোর্ট অব্যহত আছে। কিছুক্ষণ পরপরই আমরা প্রতিটা পরিবহনের কাউন্টার পরিদর্শন করি।

 

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করছে। এছাড়া থানা পুলিশ এবং স্পেশাল পুলিশও রয়েছে । এবার কোন প্রকার থ্রি হুইলার যানবাহন মহাসড়কে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না।’

 

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে লঞ্চ, ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থলপথে আমরা বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের ব্যবস্থা করেছি; যাতে সাধারণ জনগণ কোনো ঝামেলা ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।

 

 

ইত্তেফাক/ইউবি