সংস্কারের এক সপ্তাহেই উঠে যাচ্ছে চৌগাছার সিংহঝুলী-গরীবপুর সড়কের কার্পেটিং 

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২২, ১১:৫৯

যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলী-গরীবপুর সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই হাত দিতেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার কার্পেটিং। শুরু থেকে সড়কটিতে নিম্নমানের কাজ হচ্ছিল। বাধা উপেক্ষা করে ঠিকাদার কাজ অব্যাহত রাখেন। তবে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, কার্যাদেশ অনুযায়ীই ঠিকাদার কাজ করেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সড়কের বিটুমিন ও কার্পেটিং তুলে এনে ল্যাবে পরীক্ষা চলছে।

সূত্র জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলী-গরীবপুর সড়কের দেড় কিলোমিটার বা ১৫০০ মিটার পুনঃসংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। প্রায় ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে এ কাজটি পায় যশোরের ঠিকাদার ইসরাইল ট্রেডার্স। ২০২১ সালের নভেম্বর কাজ শুরু হয়। যা শেষ হয়েছে চলতি মাসের ১৭ এপ্রিল। এলজিইডি কার্যাদেশ অনুযায়ীই শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের জুনে। গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের আওতায় সড়ক সংস্কারের কাজটি দেখভালের দায়িত্বে ছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর-এলজিইডি চৌগাছা। সংস্কার কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের পাথর, ইট, বালু, খোয়া ও ম্যাকাডম দিয়ে কাজ করছিলেন ঠিকাদার। বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ জানালেও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শেষ করেছেন ঠিকাদার। এর ফলে কাজ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসছে সড়কের পিচ। সিংহঝুলী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তাসলিমা খাতুন বলেন, যখন এই সড়কের খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলে, তখন আমি কাজের অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে কাজের তদারকি করতে আসি। এসে রাস্তা সংস্কারের কাজে নিম্নমানের ইট-পাথর বিটুমিন দেওয়ার সত্যতা পাই। বিষয়টি নিয়ে রাস্তাটি সংস্কার কাজের ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলি। তারা জানায়, এখনো কাজ শেষ হয়নি। সঠিক মানে কাজ বুঝে না পেলে আমার থেকে কাজ বুঝে নিয়েন। এখন ঠিকাদার অনিয়ম করে এই সড়কে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এখন তার মোবাইলও বন্ধ।

সিংহঝুলী ইউনিয়নের মল্লিকবাড়ী খাঁ পাড়ার বাসিন্দা রফি বিশ্বাস, লিটন মল্লিক, আসাদ খানসহ কয়েক জন বলেন, সরকার এত টাকা খরচ করে রাস্তা করেছে, সেখানে ঠিকাদারদের দুর্নীতির কারণে সব টাকা জলে গেল। হাত দিয়ে রাস্তার কার্পেট তোলা যাচ্ছে, সেখানে ভারী যানবাহন কীভাবে যাবে। নিম্নমানের পাথর, ইট, বালু, খোয়া ব্যবহার করে আমাদের এই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী করে ঠিকাদার চলে গেছে। আমরা সরকারের কাছে এতবড় অনিয়মের বিচার চাই।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম আনিছুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথাও বলেছি। বিষয়টি বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। পরীক্ষার জন্য সড়কের বিটুমিন ও কার্পেটিং তুলে এনে আমাদের ল্যাবে পরীক্ষা চলছে। কার্যাদেশ অনুযায়ীই ঠিকাদার কাজ করেছে। তারপরও অভিযোগে ঠিকাদার দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/ইআ