মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রানা প্লাজা ট্র্যাজিডি: মাতৃস্নেহে অরকা হোমসে বেড়ে উঠছে ৫৬ শিশু

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২২, ০৯:১৩

রানা প্লাজার ভবন ধসে হতাহতদের পরিবারের এখনো পুনর্বাসন হয়নি। কিন্তু ঐ ঘটনায় বাবা-মা হারিয়েছেন, বিভিন্ন জেলার এমন ৫৬ শিশুর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে অরকা হোমস্ (ওল্ড রাজশাহী ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশন)। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে অরকা হোমসে মাতৃস্নেহে বেড়ে উঠছে তারা। তাদের লেখাপড়াসহ পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিজিএমইএর সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের লেখাপড়া ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

গাইবান্ধার অরকা হোমস কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর হোসেনপুর গ্রামে অরকা হোমস স্থাপিত হয়। ঐ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর কর্মকর্তা এস আই এম জাহান ইয়ারের প্রচেষ্টায় এটি গড়ে উঠে। প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন তলাবিশিষ্ট দুটি এবং প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে চার তলাবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। এখানে উন্নত পরিবেশে ৫৬ জন শিশু বসবাস করছে। এর মধ্যে ৩২ জন ছেলে ও ২৪ জন মেয়ে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর থেকে তারা এখানে বসবাস করছে। এসব শিশু লেখাপড়া করছে অরকা হোমস ক্যাম্পাসে অবস্থিত হোসেনপুর মুসলিম একাডেমিতে। একাডেমিতে প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সুযোগ রয়েছে। ঐ একাডেমিতে রয়েছে প্রায় ৪০০ ছাত্রছাত্রী ও ২০ শিক্ষক।

গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে হোসেনপুর গ্রাম। শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকৃতিঘেরা পরিবেশে অরকা হোমস কার্যালয়। ভেতরে আবাসিক ভবন, স্কুল, মসজিদ ও খেলার মাঠ। আবাসিক ভবনে শিশুরা কেউ পড়াশোনা করছে, কেউ খেলাধুলা করছে। সবার মধ্যে আনন্দ। শিশুরা জানায়, ঈদে সবাই বাড়ি যায়। তারা যেতে পারবে না, এতে তাদের দুঃখ নেই। এখানেই তারা ঈদ উদযাপন করবে।

অরকা হোমসে মাতৃস্নেহে বেড়ে উঠা রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার খেয়াডাঙ্গা গ্রামের সাগরিকা মিম জানায়, ভবন ধসে সে মা জাহানারাকে হারিয়েছে। বাবা দুখু মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করে তাকে ভরণপোষণ দিচ্ছিল না। তিন বছর ধরে সে এখানে আছে। এখন দশম শ্রেণিতে পড়ছে। লেখাপড়া শিখে সে প্রকৌশলী হবে।

একই জেলার পীরগাছা উপজেলার অভিরাম গ্রামের আল-আমিন জানায়, ভবন ধসে তার মা ফাতেমা মারা যান। এর আগে বাবা মারা যান। তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় এখানে এসেছে। এখন সে দশম শ্রেণির ছাত্র। অরকা হোমসের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত মিল্লাত মণ্ডল বলেন, শিশুরা যেন বাবা-মার মতো স্নেহ পায়, সেজন্য খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত আরেক জন নুরজাহান বেগম বলেন, মেয়েদের পৃথক ভবনে রেখে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়ে থাকে।

অরকা হোমস পরিচালক জাহেদুল ইসলাম বলেন, সাত জন কর্মকর্তা-কর্মচারী শিশুদের তদারকি করছেন। এখানে বসবাসকারী শিশুদের লেখাপড়া শেষ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরো বলেন, দুই জন চিকিৎসক সপ্তাহে দুই দিন এখানে এসে শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এসবের পাশাপাশি অরকা শীতবস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে।

এই কর্মযজ্ঞের মূল উদ্যোক্তা জাহান ইয়ার বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এর পরিধি আরো বাড়বে।

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সেচ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননের গুরুত্ব অপরিসীম: কৃষিমন্ত্রী

শিবচরে শেখ হাসিনা স্পোর্টস সিটি নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে: চিফ হুইপ 

করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত কমেছে

ঈদের ছুটিতে সড়কে ঝরল ৪০ প্রাণ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

দেশব্যাপী কোরবানি হয়েছে ৯৯ লাখ ৫০ হাজার পশু 

সাভারের সেই কলেজ অধ্যক্ষকে শোকজ

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দরিদ্রদের সহায়তায় ১ লাখ টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ

এমবিবিএস পাশ না করেই ডাক্তার!