লালমনিরহাটের বুড়িমারী শুল্ক স্টেশনের (কাস্টমস্) নির্ধারিত এলাকা অতিক্রম করে ভারত ও ভুটানের পণ্যবাহী ট্রাক দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। বেশির ভাগ পণ্যবাহী ট্রাক শুল্ক স্টেশন তথা কাস্টমস্ ঘোষিত সীমানা অতিক্রম করে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বা তারও বেশি ভেতরে ঢুকছে। এতে নিরাপত্তায় ঝুঁকি, চোরাচালান, তেল পাচারের আশঙ্কা বাড়ছে।
এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় বুড়িমারী শুল্ক স্টেশনের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, ‘কাস্টমস্ ঘোষিত এলাকা প্রয়োজনের তুলনায় কম। সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে বিদেশি ট্রাকের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। অন্য একটি দায়িত্বশীল সূত্রের মতে খেয়ালখুশি মতো নির্ধারিত কাস্টমস্ সীমানা (বন্ডেড এরিয়া) অতিক্রম করে বিদেশি ট্রাকের চলাচল ও পণ্য খালাসের সুযোগ দেওয়াটা ঠিক নয়। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষতি বা মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য পরিবহনের শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদেশি পণ্যবাহী ট্রাক দেশের বেশ কিছু ভেতরে চলাচলে কোনো বাঁধা দেওয়া হয় না। এজন্য অবাধে প্রবেশের প্রবণতা বাড়ছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর জিরো পয়েন্ট থেকে ইসলামপুর ও বুড়িমারী মৌজার আবাসিক কিছু বসতবাড়ি ছাড়া সবদিকের এলাকাগুলোতে ৫-৬ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক, মহাসড়ক ও মহাসড়কের দুই পাশে তিন-পাঁচ কিলোমিটার বাংলাদেশি এলাকার অভ্যন্তরে পণ্যবাহী ভারতীয় ও ভুটানি ট্রাক অবাধে ঢুকে থাকে।
জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে ভুটানের ওপর ভিত্তি (বেইজ) করে বুড়িমারী শুল্ক স্টেশনটির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময় ২০০২ সালে বুড়িমারী শুল্ক স্টেশনটিকে বন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১০ সালের ৩০ মার্চ পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আওতায় কার্যক্রম চালু করা হয়। এ স্থলবন্দরটির অপর পার্শ্বে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানায় চ্যাংরাবান্ধা কাস্টমস্ শুল্ক স্টেশনটির অবস্থান। বুড়িমারী স্থলবন্দর হতে চ্যাংরাবান্ধা কাস্টমস্ শুল্ক স্টেশনটির দূরত্ব ৩ কিলোমিটার। ভুটানের ফুন্টসলিং বাণিজ্যিক বন্দরের দূরত্ব প্রায় ১০৫ কিলোমিটার। ২০১০ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের সীমা নির্ধারণ করা হয়। এতে আমদানি-রপ্তানি পণ্য উঠানো ও নামানোর স্থান বুড়িমারী মৌজার বাংলাদেশ-ভারত সংযোগ মহাসড়কের সীমান্ত শূন্য রেখার ৫০০ মিটার অভ্যন্তর থেকে পাটগ্রাম উপজেলা অভিমুখী ঐ সড়কের ইসলামপুর মৌজার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত উভয় দিকে ৫০০ মিটার বিস্তৃত এলাকা পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণ করা হয়। সীমানা অতিক্রম করে ভারত ও ভুটান থেকে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল পণ্য উঠানো ও নামানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২০ সালের এক চিঠির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সর্তক করা হয়। কিন্তু কাস্টমস্ সীমানা অতিক্রম করার বিধিনিষেধ কেউ মানছে না।
বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের মেসার্স গোল্ডেন এন্টারপ্রাইজের মনোয়ার হোসেন বলেন, এক যুগ আগে কাস্টমের নির্ধারিত সীমানা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত কম। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পণ্য রাখার শেডও কম। সরকারি স্থলবন্দর হিসেবে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরই বুড়িমারী স্থলবন্দরের গুরুত্ব রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাস্টমের নির্ধারিত সীমানা বৃদ্ধি করা জরুরি। ভারতের আসাম থেকে আসা ট্রাক চালক জুরান আলী বলেন, এখানকার (বাংলাদেশের) আমদানিকারকেরা পাথর বোঝাই ট্রাক নিয়ে আমাদেরকে যেখানে যেতে বলেন সেখানে যাই। কেউ কোনো প্রকার নিষেধ করে না। আমরা যদি অপরাধ না করি তাহলে তো সমস্যা নেই।
বাংলাদেশি ট্রাক চালক লিমন বাবু বলেন, ভারতের চ্যাংরাবান্ধা বন্দরের নির্ধারিত সীমানা (প্রায় দুই কিলোমিটার) থেকে বেশি যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখানকার (বুড়িমারীর) মতো চালকদের গাড়ি নিয়ে চলাচল করার স্বাধীনতা ওখানে (চ্যাংরাবান্ধায়) নাই। এ ব্যাপারে বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার জে এম আলী আহসান বলেন, কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট সজাগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদেরকে সর্তক করা হচ্ছে। কাস্টমস্ এলাকা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

