লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলার চার সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তের শূন্যরেখায় জড়ো করা নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৩৩ জনকে শুক্রবার (৫ জুন) রাতে ও শনিবার ভোরে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বিএসএফ।
জেলার পুরো সীমান্ত জুড়ে সর্তক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা গেছে বিএসএফকে।
বিজিবি, সীমান্ত সূত্র ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাট সীমান্তের ১০ গজ অভ্যন্তরে বাংলাদেশ-ভারতের অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সীমান্তের প্রধান পিলার ৯১২ নম্বরের ২ নম্বর উপপিলারের নিকট এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির আহ্বানে বৈঠকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম ও ৭৮ বিএসএফের শ্রী মনোজ কুমার ব্যাটালিয়নের কমান্ডেন্টসহ দুই দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে সীমান্তের শূন্যরেখায় নিয়ে আসা লোকজনদের ভারতের অভ্যন্তরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ওইদিন রাত সাড়ে ৯ টার দিকে পুশইনের ঘটনাস্থলের সীমান্তের বেড়া কাটার উচ্চ আলো সম্পন্ন লাইট (বাল্ব) বিএসএফ বন্ধ করে দেয়। এ সময় জেলার আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী সীমান্তের বিপরীতে ভারতের কাউয়ারচর কুঠিবাড়ি সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ৭ জন ও একই উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের শ্রীলঙ্কাপাড়ার শূন্যরেখা হতে ৫ জন, বাংলাদেশের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের বুড়াসারডুবি সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১১ জন এবং শনিবার সকাল সাড়ে ৬ টায় পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কামাতটারী এলাকা বিপরীতে ভারতের কোচবিহার রাজ্যের মাথাভাঙ্গা থানার পানিশালা সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১০ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বিএসএফ।
এদিকে পুশইনের জন্য নিয়ে আসা সীমান্তের শূন্যরেখায় জড়ো করা নারী-পুরুষ ও শিশুরা খোলা আকাশের নিচে ঝড়, বৃষ্টিতে নির্ঘুম রাত কাটায়।
এর আগে শুক্রবার ভোরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৪৬ নম্বরের ১ নম্বর উপপিলারের একদিকে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কামাতটারী এলাকা। অপরদিকে (বিপরীতে) ভারতের কোচবিহার রাজ্যের মাথাভাঙ্গা থানার পানিশালা সীমান্ত। এ সীমান্ত দিয়ে ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা পাঁচ নারী, তিন পুরুষ ও দুই ছেলে শিশুকে ঠেলে দেয়।
একই দিনে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৮৬ নম্বরের ভারতের বুড়াসারডুবি এলাকা দিয়ে ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ছোটমধুসূদন ক্যাম্পের সদস্যরা তিনজন পুরুষ ও আটজন নারীকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। একই দিন ভোরে সীমান্তের প্রধান পিলার ৯২৫ নম্বরের একদিকে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্ত। বিপরীতে ভারতের কোচবিহার রাজ্যের শ্রীলংকাপাড়া এলাকা দিয়ে ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পদ্মা ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা একজন পুরুষ, চারজন নারী ও এক শিশুকে এবং একই সময় একই উপজেলার সীমান্তের ৯২৫ নম্বর প্রধান ও ৭ নম্বর উপপিলারের শূন্যরেখা দিয়ে ভারতীয় কাউয়ারচর ও কুঠিবাড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিএসএফের মদনাকুড়া ক্যাম্পের সদস্যরা চারজন পুরুষ, দুইজন নারী ও একজন শিশুকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে।
এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান বলেন, ‘সমস্ত সীমান্ত এলাকাব্যাপী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা কোনো পুশইন হতে দিবো না। যেসব সীমান্তে সমস্যা হয়েছে প্রত্যেকটির ব্যাপারে আমরা গ্রাউন্ড লেবেল (মাঠ পর্যায়) কমান্ডার, সিও সব পর্যায়ে কথা বলেছি- আমরা শক্তভাবে বলেছি এভাবে লোকদের পুশইন করা যাবে না। স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিউর (নির্ধারিত প্রক্রিয়া) অনুযায়ী পাঠান। আমাদের সরকার আপনাদের সরকারের মধ্যে যে প্রত্যাবসানের যে নিয়মাবলী আছে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন এটা ইজিয়ার (সহজ) হবে।’

লালমনিরহাটের ৪ সীমান্ত দিয়ে ‘পুশইন’ চেষ্টা বিজিবির বাধায় পণ্ড