রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আজ কালের মধ্যে ৬১ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২২, ০৬:০০

আজকালের মধ্যেই ৬১ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জেলা পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসকেরাই দায়িত্ব পালন করবেন।

তবে যাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, মূলত তারাই ভবিষ্যতে পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে লড়বেন। বিষয়টি মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদে ইত্তেফাককে বলেন, বুধ অথবা বৃস্পতিবারের মধ্যে ৬১ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে প্রশাসক নিয়োগের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, মেয়াদোত্তীর্ণ ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এর পরই জেলা পরিষদ নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ ইত্তেফাককে বলেন, তিন মাসের মধ্যে জেলা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে জেলা পরিষদের সীমানা ও ভোটার তালিকা করার কাজ শেষ হবে। আশা করছি ঈদের পরপরই জেলা পরিষদের তপশিল ঘোষণা করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।

সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে জেলায় অন্তর্ভুক্ত সিটি করপোরেশন (যদি থাকে), উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নির্বাচিত হবেন। জনপ্রতিনিধিরা শুধু ভোটই দিতে পারবেন, প্রার্থী হতে পারবেন না। আর বাংলাদেশের ২৫ বছর বয়সি যেকোনো ভোটার জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী হতে পারলেও ভোট দিতে পারবেন না।

জেলা পরিষদ নির্বাচনও এবার যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি। গত জানুয়ারিতেই এই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। স্থানীয় সরকারের জেলা পরিষদ আইন অনুসারে, এই প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় হচ্ছে পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগের ছয় মাস। সে ক্ষেত্রে গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যেই এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। করোনাসহ নানান কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সরকার বিভাগ আইন সংশোধন করে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়। গত ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে জেলা পরিষদ আইনের ঐ সংশোধনী বিল পাশ হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ১৩ এপ্রিল এর গেজেট হয়। এর পরই জেলা পরিষদগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করে এসব পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম চালানোর জন্য ক্ষমতা দেওয়া হয় পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের।

জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বিধান যুক্ত করে জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইনে জেলা পরিষদে বিদ্যমান ১৫ জন সাধারণ সদস্যের স্থলে উপজেলার সমানসংখ্যক সদস্য থাকার বিধান করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে ৮২ নম্বর ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, এতে কোনো জেলা পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে এবং পরবর্তী পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত পরিষদের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সরকার একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তাকে প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে। প্রশাসকের মেয়াদ ও অব্যাহতি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে। প্রশাসকের মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি হবে না। একই সঙ্গে একাধিকবার কেউ প্রশাসক থাকতে পারবেন না। সংশোধিত আইন অনুসারে জেলা পরিষদগুলোর সদস্যসংখ্যা গতবারের তুলনায় এবার কমতে পারে। গতবার সব জেলা পরিষদেই একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যসহ মোট ২১ জন নির্বাচিত হন। সংশোধিত আইনে প্রতি উপজেলায় একজন সদস্য ও চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের মোট সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ এবং কমপক্ষে দুজন নারী সদস্য নির্বাচিত হবেন। ছোট জেলার সদস্যসংখ্যা অনেক কমে আসবে এবং বড় কয়েকটি জেলার জেলাপরিষদে সদস্যসংখ্যা বাড়বে।

এইচ এম এরশাদ আমলে গঠিত জেলা পরিষদে সংসদ সদস্যরাই দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নতুন করে জেলা পরিষদ আইন প্রণয়ন করে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জেলা পরিষদ পরিচালনা করে। আওয়ামী লীগের নেতারাই মূলত প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান।

দেশে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন হয় ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর। সে সময় তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১টি জেলায় নির্বাচন হয়। এর মধ্যে ২১টি জেলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এ ছাড়া নির্বাচনে ৬৯ জন সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য এবং ১৬৬ জন সাধারণ সদস্যও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা শপথ নেন ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি আর সদস্যরা শপথ নেন ১৮ জানুয়ারি।

ইত্তেফাক/ইউবি