বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

তিন ফসলি জমির মাটি পুড়ছে ইটভাটায়

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২২, ০৫:০০

উপজেলার চান্দহর ও জামির্ত্তায় ফসলি জমির টপসয়েল (উপরিভাগ) কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। অপরদিকে ধলেশ্বরী নদীর মাটি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। অনিয়মের মধ্য দিয়ে নদী খননের নামে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হলেও সরকার হারাচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব। বরং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক।

এছাড়া নদী খনন প্রকল্প শেষ হয়েছে অনেক আগেই। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তারা রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছেন এবং নদী খননে সরকারের যে উদ্দেশ্য ছিল তা ভেস্তে গেছে বলে এলাকাবাসীর দাবি। আবার অন্যের ফসলি জমির ওপর দিয়ে নেওয়া হচ্ছে মাটি বহন করা ট্রাক। খননযন্ত্র দিয়ে জমি গর্ত করায় ভেঙে পড়ছে পাশের জমি। নদী ভরাট করে রাস্তা বানানো হয়েছে মাটির ট্রাক চলাচলের জন্য। অপরদিকে ইটভাটায় মাটির ট্রাক চলাচলের জন্য খাল ভরাট করে রাস্তা করার কারণে জমিতে জলাবদ্ধতা হয়ে ধান বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন হাতনি চকের কৃষক। তাদের অভিযোগ মাটি খেকোরা এতটাই শক্তিশালী যে, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পরও বন্ধ হচ্ছে না। অন্যদিকে দিন রাত নদী ও জমির মাটি ডাম্প ট্রাক দিয়ে টানার ফলে অল্প দিনেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পৌরসভাসহ উপজেলার গ্রামীণ কাঁচা পাকা সড়ক ও ব্রিজ কালভার্ট। ম্যানেজ করেই চলছে সব।

চারিগ্রামের এক মাটি ব্যবসায়ী বলেন, টাকা দিলে দিন রাত মাটির ট্রাক চালানো যায়। না দিলে চালানো যায় না। সিনিয়র এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ২ লাখ টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি আরো বলেন, তার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর ঐ কর্মকর্তা বলছে এখন থেকে কোন সমস্যা হবে না। আবু সায়েম নামে স্থানীয় ব্যক্তি জানান, হাতনি এলাকায় চারটি ভাটা রয়েছে। এই ভাটার জন্য তিন ফসলিকে এক ফসলি জমির সার্টিফিকেট দিয়েছে কৃষি অফিস। পরিবেশ অধিদপ্তরও তাই করেছে। এছাড়া শান্তিপুর পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করেই রাতের আঁধারে মাটি কেটে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। হাতনি চকের কৃষকরা বলেন, ইউএনও অফিসে অভিযোগপত্র দেওয়ার পরও মাটি কেটে নেয় সিরাজ, বাছেদ, ছলিম গংরা। কুদ্দুস ফকির, আশরাফ হোসেন, নজির আহমেদ ও আরিফ হোসেন জানান, খালের মুখ বন্ধ করে তাদের জমির ওপর দিয়ে নেওয়া হচ্ছে মাটির ট্রাক। এতে বৃষ্টির পানি বের হতে না পারলে অন্তত ১০ হাজার একর জমির ধান তলিয়ে যাবে।

কৃষক শামসুল হক বলেন, তার ২০ বিঘা জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবাদ করায় মাটি ব্যবসায়ী সিরাজ উলটো তাদের নামেই মামলা দিয়েছেন। চান্দহর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান বলেন, চান্দহরে তিন ফসলি জমিতে ২০টি ইটভাটা রয়েছে। একটি ভাটায় বছরে পাঁচ বিঘা জমির মাটি লাগে। এতে ১৫ ফুট গভীর করে গর্ত করলে ১০০ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়। ঐ জমিতে আর ফসল হবে না। শুধু তাই নয় পাঁচ বিঘা জমি কাটলেও আশপাশের আরো ২৫ ভাগ জমি ভেঙে যায়। এখানে বিঘাপ্রতি জমিতে ৩০ মণ ধান হয়। এতে ১০০ বিঘা জমি থেকে বছরে ৩ হাজার মণ ধান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক। তিনি আরো বলেন, মানিকনগরের বক্কার মোল্যা গংরা রিফাইতপুর মৌজায় তার জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নেয়। এসিল্যান্ড বরাবর অভিযোগ দেওয়ার পরও কাজ হয়নি। নেধু মণ্ডলের অভিযোগ ঢালিপাড়ার মালেক গংরা মাটি কেটে নেওয়ার ফলে তার জমি ভেঙে যাচ্ছে। তিনিও অভিযোগ করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিপন দেবনাথ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার ফসলি জমিতে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ফিরে এসেছি । এছাড়া রাতের বেলায় সেখানে যাওয়া সম্ভব না। কেউ মামলা করতে চায় না। মামলা করলে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। নদীর বালু উত্তোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বালু ব্যবসায়ীরা মিলে যা করছে তা তা তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না। অবৈধ বালুবাহী ডাম্প ট্রাক ও মাহেন্দ্রর কথা স্বীকার করে থানার ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্যা বলেন, বালু ব্যবসার সঙ্গে এখানকার সব বড় বড় নেতারা জড়িত। এটা সহজে বন্ধ হবে না। এখানে পুলিশের কোন স্বার্থ নেই।

ইত্তেফাক/ইউবি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

মানিকগঞ্জে ১২ লাখ টাকার হেরোইনসহ গ্রেফতার ২

বিশেষ সংবাদ

রংপুরের ৮ জেলায় ভয়াবহ লোডশেডিং

নেত্রকোনায় বন্যায় রোপা আমন আবাদ বিঘ্নিত, বিপাকে কৃষক

বিশেষ সংবাদ

এবার ঈদে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া থাকবে না ভোগান্তি, চলবে ২১ ফেরি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ঘিওরে নৌকার হাট এবারও রমরমা

বিশেষ সংবাদ

জমে উঠেছে ২০০ বছরের পুরনো ‘ঘিওর নৌকার হাট’

বিশেষ সংবাদ

শত সংকটে সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যাদুর্গতরা

বিশেষ সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চর্মরোগের প্রকোপ, লক্ষাধিক আক্রান্ত