কামারখন্দে ইউনিয়ন পরিষদেই মিলছে কৃষির সকল সেবা

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২২, ১১:৩২

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে কৃষকের তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র (ফিয়াক সেন্টার) স্থাপন করা হয়েছে। এতে করে কৃষককে আর উপজেলা কৃষি অফিসে যেতে হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকেই সকল কৃষি সেবা পেয়ে খুশি উপজেলার কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম (এনএটিপি-২) প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের আলাদা কক্ষে কৃষকের তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। সেখানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের জন্য সকল ফার্ণিচার সহ রয়েছে কৃষকদের বসার চেয়ার। সপ্তাহে চারদিন বিকেল ৩ টা থেকে ৫টা পর্যন্ত একজন উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্রে অবস্থান করবেন এই সময়ে কৃষক কৃষির সকল সেবা গ্রহণ করতে পারবে।

তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্রে রয়েছে আদ্রতামাপক যন্ত্র, যার মাধ্যমে কৃষক সহজেই ধানের আদ্রতা পরিমাপ করে সরকারি ভাবে গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছে। কৃষকের তালিকা, কৃষকদের প্রণোদনা ও প্রশিক্ষনের তালিকাও করা হয় তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র থেকে। তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্রের রোগ ও পোকার জাদুঘর থেকে প্রচলিত মাঠ ফসলের রোগ এবং ক্ষতিকর ও উপকারি পোকার বিষয়ে কৃষক সহজেই সরেজমিন ধারণা করতে পারে।  তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্রের সম্পূর্ণ কক্ষটি বিভিন্ন কৃষি ভিত্তিক তথ্যের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষক সহজেই সকল তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে।

ঝাঐল ইউনিয়নের বাগবাড়ী গ্রামের কৃষক সেলিম মির্জা জানান, আমার বাড়ী থেকে উপজেলা কৃষি অফিস প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আর ঝাঐল ইউনিয়ন পরিষদ ২ কিলোমিটার দূরে। আগে যে কোন কৃষি সমস্যা নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসে যেতে হতো। এখন আর উপজেলা কৃষি অফিসে যেতে হয় না। ঝাঐল ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থিত তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র থেকে সকল কৃষির সমস্যা সমাধান করতে পারছি। এতে আমাদের খুব উপকার হয়েছে।

ভদ্রঘাট ইউনিয়নের নুরনগর গ্রামের কৃষক লিটন জানান, আমার নিজের জমি আমি নিজেই আবাদ করি। যার কারণে সময় একটু কমই পাই। আমার এলাকা থেকে উপজেলা কৃষি অফিস প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। একদিন উপজেলা কৃষি অফিসে গেলে সারাদিন আর তেমন কাজ করতে পারি নাই। আর এখন বাড়ীর কাছেই ধামকোলে তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র হওয়ায় একদিকে সময় বাঁচছে অন্যদিকে যাতায়াত খরচ নেই বললেই চলে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, সকল কৃষি সেবা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এনএটিপি-২ প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের আলাদা কক্ষে কৃষকের তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে কৃষক খুব সহজে কৃষির সকল সমস্যা সমাধান করতে পারছেন। এতে কৃষকের সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয়ী হয়েছে।

ইত্তেফাক/ ইআ