মিরপুরের বসতি হাউজিংয়ের পাশের একটি মসজিদে গত ১৫ই এপ্রিল আসরের নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নাইম খান। কিন্তু নামাজ শেষে তিনি আর বাসায় ফেরেননি। ঘটনার ১৫ দিন পরও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তার সন্ধান দিতে পারেনি। তবে এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মনজুর রাহী।
এদিকে নাইমের নিখোঁজের ঘটনায় দিশাহারা তার পরিবার। ডিবি, সিআইডি, পুলিশ সদর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে ছোটাছুটি করলেও তাকে তুলে নেয়ার বিষয় সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।নিখোঁজের পরদিন নাইমের স্ত্রী মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১৫ই এপ্রিল যখন তাকে ,মাইক্রোবাসে তোলা হয় তখন ঘটনাস্থলে থাকা মুসল্লিরা বাধা দিলে তারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দেয়। এরপর একটি কালো রংয়ের মাইক্রোবাসে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ১৫ দিন পার হলেও এখনো কোন সন্ধান মেলেনি নাইমের।
নিখোঁজ নাইমের মেয়ে তাসনীম নাঈম রাইসা ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, আমার আবার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কারো কোনো শত্রুতা নেই। এছাড়া তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। বর্তমান কর্মস্থলের আগে আমার বাবা গুলশানের রেডিয়েন্ট করপোরেশন নামে প্রতিষ্ঠানের টেকনিক্যাল সেলস ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তাদের এই কোম্পানি মূলত টেলিকমিউনিকেশন সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে। বিভিন্ন বাহিনীতে কোম্পানিটি এসব সরঞ্জাম সরবরাহ করে।
তার পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, দীর্ঘ ২৪ বছর চাকরি করার পর করোনাকালে বেতন কমানোয় তিনি আগের চাকরি ছেড়ে গত জানুয়ারি মাসে স্টেট গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ডিজিএম হিসেবে চাকরি নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার সাবেক এক সহকর্মী ইত্তেফাক অনলাইনকে জানান, নাঈম আমার এক সময় সহকর্মী ছিলেন, তিনি অত্যন্ত নম্র, ভদ্র। আমার জানা মতে তার সঙ্গে কারো কোন দ্বন্দ্ব কিংবা বিরোধ নেই। খুব কষ্ট লাগছে এতোদিন ধরে তিনি নিখোঁজ এখনো খোঁজ পায়নি তার পরিবার।
এ ঘটনায় স্থানীয় সিসিটিভি ভিডিও ক্যামেরা নষ্ট থাকলেও আশেপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ।এ প্রসঙ্গে মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রাহী জানান, ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু ভিডিও ফুটেজে থাকা গাড়ির নম্বর মিলছে না। গাড়ির ব্যবহৃত নম্বরটি ভুয়া হওয়ায় অপরাধীদের শনাক্তে বড় জটিলতা দেখা দিয়েছে। তাকে যদি অপরহণ করা হয় সে ক্ষেত্রে অপহরণকারীরা ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করবে। সেটাও করেনি। এখন পর্যন্ত কেউ ফোন দেয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয় দেয়ার বিষয়ে বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এছাড়া কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ত থাকার খবর পাওয়া যায়নি।
