নিজেদের প্রমাণ করতে চান সাকিব

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৯, ২১:১৯

ওভালে রবিবার দিনটা শুধু বাংলাদেশ দলের জন্যই নয়, সাকিবের জন্যও ছিল বিশেষ এক দিন।

দক্ষিণ আফ্রিকার মত কঠিন প্রতিপক্ষকে হারানোর পর পুরো টিমই ছিল উচ্ছ্বসিত। তবে সাকিবের প্রাপ্তিটা হয়তো অন্যদের চেয়ে খানিকটা বেশি ছিল। এই ম্যাচে ওডিআই ক্যারিয়ারে ২৫০তম উইকেট তুলে নেন সাকিব। এইডেন মার্করামের ওই উইকেটটি সাকিবের জীবনে নতুন মাইলফলক গড়ে দেয়। ৫ হাজার ওডিআই রানের মালিক হিসেবে সাকিবই দ্রুততম ২৫০ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়লেন। তার সাথে বাড়তি পাওনা ছিল ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

ম্যাচ শেষে ওভালের প্রেসবক্সে জড়ো হওয়া সাংবাদিকদেরকে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বলেন, ‘দিনটা অবশ্যই ভালো ছিল আমার জন্য। দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছি। ব্যক্তিগত কিছু অর্জন ছিল। মুশফিক ভাই‘র সাথে পার্টনারশিপটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার কাছে। এটা আমাদের দলের ভিত গড়তে সাহায্য করেছে।’

দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ম্যাচে তৃতীয় উইটে জুটিতে সাকিব-মুশফিক করেছেন ১৪২ রান। এই জুটি সম্পর্কে সাকিব বলেন, ‘মুশফিক ভাইর সাথে আমার বেশ কিছু ভালো পার্টনারশিপ আছে। এমনকি টেস্টেও বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড আমার আর মুশফিক ভাই জুটির। আমরা দুইজন একসাথে খেলছি সেই অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে। একজন আরেকজনকে অনেক ভালো বুঝতে পারি। আমি মাত্র ১০-১২টা ইনিংস ৩ নম্বরে খেলেছি। তবে এই পজিশনটা আমি এখন খুব উপভোগ করছি। ভালো লাগছে এটা ভেবে যে এখন আমি দলের জন্য কিছু দিতে পারছি।’    

গত চার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে সাকিবের ফিফটি রয়েছে। এর রহস্যটা জানতে চাইলে সাকিব রসিকতা করে বলেন, ‘জানি না কি এর রহস্য। তবে শুরুটা যেমনই হোক, এবার যেন শেষটা অন্য বিশ্বকাপের মত না হয়।’  সাকিব বলেন, ‘ভালো কিছু করার জন্য আমরা এবারের বিশ্বকাপে এসেছি। আমরা চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য তৈরি। যে কোনো দলকে হারানোর ক্ষমতা আমাদের আছে।’

সাকিব জানালেন, ‘সামনে আরো আটটা ম্যাচ আছে। অনেক কঠিন পরিস্থিতি আমাদের মুখোমুখি হতে হবে। এই রেজাল্টের পর সব টিমই আমাদের সাথে আরো সতর্কভাবে খেলবে। আমাদের আরো ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। আরো ভালোভাবে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।’

বাংলাদেশ দলকে যে এই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের পরও অনেক কিছু প্রমাণ করতে হবে, সেটা বলছিলেন সাকিব, ‘আমাদের অন্যরা খুব বেশি ওরকম পাত্তা দেয় না। ওই জায়গাগুলোতেই আমাদের প্রমাণ করার অনেক কিছু আছে। শুরুটা ভালো হলো। আমি মনে করি যে মানসিকভাবে সবাই ভালো একটা অবস্থায় আছে। এভাবে যদি আমরা যেতে পারি, অনেক দূর যাওয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি।’

প্রমাণ করার পথে শুরুটা দারুণ হওয়ায় সাকিব ছিলেন উচ্ছ্বসিত। জানালেন, শুরুটা ভালো করতে মুখিয়ে ছিল গোটা দলই, ‘খুবই ভালো লেগেছে। আমাদের ভেতরে বিশ্বাসটা ছিল। কিন্তু সেই বিশ্বাস আসলে কাজে দেখানোর দরকার ছিল। এটার জন্য সবাই খুব উদগ্রীব ছিল। ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল। পাশাপাশি সবাই যেহেতু আত্মবিশ্বাসী ছিল, সেটা সাহায্য করেছে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে।’