সিরাজগঞ্জে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরমুখো মানুষের যমুনা পারাপার 

আপডেট : ০২ মে ২০২২, ১২:১৭

আর একদিন পরেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান পবিত্র ঈদ-উল ফিতর। পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে সড়ক পথে চাপ থাকায় ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার নদী পথে। এই পথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন এনায়েতপুর, বেলকুচি শাহজাদপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। এতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

অনেকেই সারাবছর বাড়িতে না আসলেও মাটির টানে দুটি ঈদে বাড়িতে আসে পরিবার পরিজনের সাথে মিলেমিশে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে। তখন আনন্দ হয় নিরানন্দ৷ আবার অনেকের বাড়ি নদীর মাঝে চরে হওয়ায় বাধ্য হয়েই পারি দিতে হয় করালগ্রাসি যমুনা৷ যার ফলে নিজ উপজেলায় পা দেয়ার পরেই শুর হয় জীবনের চরম ঝুঁকি।

জানা যায়, উপজেলার চরজাজুরিয়া, আজিমুদ্দিন মোড়, জোতপাড়া, ভূতের মোড়, এনায়েতপুর নৌ-ঘাট সহ অসংখ্য স্পট থেকে নৌকা যোগে বাড়ি ফিরছে যাত্রীরা।
নৌকার মাঝিরাও লাভের আশায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পারি জমাচ্ছেন৷

উপজেলার হাপানিয়া চরের জাকির হোসেন বলেন, ঈদের মধ্যে মানুষজন গ্রামের বাড়িতে আসে আনন্দ করতে, কিন্তু  প্রায়ই যমুনায় ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা৷  এর আগেও ঈদের পরেরদিন বেড়াতে যাওয়ার সময় নৌকা ডুবির ঘটনায় বেশ কয়েকজন মারা গিয়েছিলো।

হাটাইল চরের বাসিন্দা মো. বেলাল হোসেন বলেন- ইঞ্জিন চালিত ছোট-বড় নৌকায় করে যমুনা পাড়ি দিতে অনেক সময় ঘটে দুর্ঘটনা। যমুনা পাড়ি দিতে  দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনাও কম নয়। ধনী শ্রেণীর মানুষ নৌকা রিজার্ভ নিয়ে গেলেও গরিব মানুষগুলো ভাড়ায় চালিত নৌকায় পাড় হচ্ছে। এদিকে বেশি টাকার আশায় কিছু অসাধু মাঝি অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পারি দিচ্ছে যমুনা ফলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফসানা ইয়াসমিন জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠির মাধ্যমে বিকেল ৪.০০ ঘটিকায় নৌকা চলাচল বন্ধ, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট রাখা সহ মাঝিদের বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও সার্বক্ষণিক নৌ পুলিশ টহলে আছে বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/এআই