যেখানে প্রতিদিন ইফতার পেয়েছে হাজারো মানুষ

আপডেট : ০৩ মে ২০২২, ১৩:০৩

প্রথম রমজান থেকে শুরু, রমজানের প্রতিদিন দুপুর থেকে শুরু হতো বিশাল এক আয়োজনের ব্যবস্থা। পুরান ঢাকার বাদামতলি থেকে ধানমন্ডির স্টার কাবাব। সব জায়গার বিভিন্ন মুখরোচক খাবার দিয়ে সাজানো থাকতো মধুর ক্যান্টিনের ইফতারের আয়োজন। ছাত্রলীগের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে মাসব্যাপী ইফতার পেয়েছে হাজারো মানুষ। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে ইফতারের আয়োজন বন্ধ থাকায় এ মসজিদে যেসব শিক্ষার্থী ও পথচারী ইফতার পেতো তারাও এবার মধুর ক্যান্টিনে ইফতার করতে পেরেছে। ছাত্রলীগের সমাজসেবা সম্পাদক শেখ স্বাধীন মোহাম্মদ শাহেদের উদ্যোগে এ ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে। 

গত বছরেরর লকডাউনের সময়ে শিক্ষার্থীদের শীতের কাপড় ও রমজানে ইফতার বিতরণ করে ছাত্রলীগের সমাজসেবা সেল। তবে এবার শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের না দিয়ে সর্বস্তরের মানুষদের ইফতারি দিচ্ছে এ সেল। 

দিনমজুর ইয়াছিন আলী প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়ায় ইফতার করতে আসতেন। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর মসজিদে বন্ধ করে দেয়া হয় ইফতার। ইয়াছিন আলী এ বছর ইফতার করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে। তিনি বলেন, ইফতারের আগে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার ক্ষ্যাপ নেই। তারপর এখানে এসে দাঁড়ালে ভাইরা ইফতার দেয়। আমার মতো যারা দিন মজুর তাদের জন্য এসব উদ্যোগ আশীর্বাদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাব্বি আহমেদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিদিনই কোন না কোন ইফতারের আয়োজনের ব্যবস্থা থাকলেও স্থায়ীভাবে কোথাও ইফতার দেয়া হয়না। একমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দেয়া হতো। এখন তাও বন্ধ। ছাত্রলীগের এ উদ্যোগের মাধ্যমে যারা আর্থিক কিংবা  সুযোগের অভাবে ইফতার করতে পারতো না তাদের জন্যও ব্যবস্থা হলো। 

ইফতার বিতরণ কর্মসূচির উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সমাজসেবা সম্পাদক শেখ স্বাধীন মো. শাহেদ বলেন, করোনার সময়ে ঢাকায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনায় নিয়ে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণের ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। এবার অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। আমরা এবার শুধু শিক্ষার্থীদের বিবেচনায় রাখিনি, দিনমজুর সহ সব শ্রেণী পেশার মানুষকে আমরা ইফতার সহায়তা দিয়েছি। কাকফাটা রোদ হোক কিংবা কাল বৈশাখি ঝড় কিন্তু এর মাঝেও আয়োজনের কোনো ঘাটতি থাকেনি।

ইত্তেফাক/এআই