জঙ্গিদের জামিনে মুক্তি এবং হামলার আশঙ্কা

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৯, ২১:৩৩

কোনো কোনো সংবাদ পাঠ করিয়া পাঠকের কপালে চিন্তার রেখা ফুটিয়া উঠিতে পারে বইকি। বিশেষ করিয়া সেই সংবাদের সঙ্গে যদি সাধারণ্যের নিরাপত্তার প্রশ্নটি জড়াইয়া থাকে। বাংলাদেশে জঙ্গি তত্পরতা, জঙ্গি হামলার সহিত সরাসরি প্রতিটি নাগরিকের উদ্বিগ্ন হইবার কারণ নিহিত আছে। ঈদের নিরাপত্তা লইয়া ব্রিফিং করিতে গিয়া র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক জানাইয়াছেন, বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে জঙ্গি হামলার ঝুঁকি রহিয়াছে। আদালত হইতে জামিন লইয়া পলাতক থাকা জঙ্গিরা আবারও সংগঠিত হইবার চেষ্টা করিতেছে। সেইসঙ্গে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করিয়া বলিয়াছেন, তাহারা বেশিদিন এই তত্পরতা চালাইতে পারিবে না। রমজানের শুরু হইতেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হইয়াছে। তিনি জানাইয়াছেন, হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর হইতে এই পর্যন্ত ৫১২ জনকে গ্রেফতার করিয়াছে র্যাব। তাহার মধ্যে ৩০০ জঙ্গি জামিনে বাহির হইয়াছে, যাহাদের অধিকাংশই বর্তমানে পলাতক। জঙ্গিদের জামিন পাওয়ায় হতাশ হইয়া আক্ষেপ করিয়া তিনি আইনজীবীদের আদালতে তাহাদের পক্ষে না দাঁড়াইতে অনুরোধ করিয়াছেন। বলিয়াছেন, যাহারা জঙ্গিদের জামিনের জন্য লড়িতেছেন, তাহারাও হামলার শিকার হইতে পারেন।

আমরা র্যাব মহাপরিচালকের আক্ষেপের বিষয়টি বুঝি। কষ্ট স্বীকার করিয়া জঙ্গি ধরিয়াছেন, এখন জামিন লইয়া তাহারাই আবার মাথাব্যথার কারণ হইয়া দাঁড়াইলে স্বাভাবিকভাবেই মহাপরিচালকের আক্ষেপ করিবার কথা। কিন্তু কেন এইরূপ হইতেছে, কেন তাহারা জামিন পাইতেছে তাহা একটু তলাইয়া দেখিতে হইবে। মহাপরিচালকের একটি উক্তির মধ্যেই ইহার উত্তর রহিয়াছে। তিনি বলিয়াছেন, আইনের কোনো সমস্যা নাই, আইন প্রয়োগের মধ্যে কিছু সমস্যা থাকিতে পারে। অর্থাত্ আদালতে সোপর্দ করিবার পর জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সঠিক ধারায় অভিযোগ দাখিল করা হইতেছে কি না, আদালতে সঠিক তথ্য-প্রমাণ উপস্থিত করা হইতেছে কি না তাহা ভাবিয়া দেখিবার প্রয়োজন রহিয়াছে।  যেই ধারায় মামলা রুজু করা হইতেছে তাহা জামিনযোগ্য কি না তাহাও বিবেচনার বিষয়। আইনের চক্ষে  সকল নাগরিক নির্দোষ। সকল নাগরিক সমান। সুতরাং অপরাধীর অপরাধ প্রমাণ করিবার দায় সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার, আদালতের নহে। দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক নাগরিকের আইনি সহায়তা পাইবারও অধিকার রহিয়াছে। প্রতিটি নাগরিকই নিজের পক্ষে আইনজীবী নিয়োজিত করিতে পারেন। তাই র্যাব মহাপরিচালকের কথা উপলব্ধি করিবার মতো হইলেও বাস্তবে অনুসরণ করা মুশকিল। বরং র্যাবসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে আমরা আরো সতর্ক হইবার পরামর্শ দিব। জঙ্গি গ্রেফতার করিবার পর তাহাদের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত প্রমাণাদিতে যেন দুর্বলতা না থাকে, তদন্তে যেন গাফিলতি না থাকে সেইদিকে নজর বাড়াইতে হইবে। তাহা হইলেই জামিনজনিত সমস্যা মিটিয়া যাইবে।