ছিনতাই রোধে সতর্ক হোন

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৯, ২১:৩৬

ঢাকাসহ সারাদেশে একের পর এক ঘটছে প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা। এসব ঘটনায় সর্বস্ব খোয়ানোর পাশাপাশি হতাহতও হচ্ছেন অনেকে। মানুষের কষ্টে উপার্জন করা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নানা ভয়-ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা। পুলিশ সদস্যরাও এদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। বস্তুত রীতিমতো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী চক্র। ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো জনমনে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে রাস্তায় চলাচলকারী লোকজনের মনে সারাক্ষণ ছিনতাই আতঙ্ক লেগেই থাকে।

ঢাকায় অনেক ফাঁকা রাস্তায় যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীদের ব্যাগ, মোবাইল ফোনসেট, মানিব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। পুলিশের ভাষায় এই চক্রের নাম ‘টানা পার্টি’। সাধারণত ঈদের সময়ে ছিনতাইকারী, টানা পার্টি, মলম পার্টির তত্পরতা বাড়লেও এখন তা কোনো অংশে কম নয়। দিনে বা সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। রাতে বা ভোরে ছিনতাইকারীরা বের হয় প্রাইভেট কার নিয়ে। মোটরসাইকেল বা প্রাইভেটকারে মহিলাদের ভ্যানিটি ব্যাগ, রিকশাযাত্রীদের মোবাইল ফোনসেট, মানিব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। রাজধানী ঢাকার ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, রাত ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের তত্পরতা বেশি থাকে। প্রতিদিন গড়ে ২৫টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। চট্টগ্রামে ছিনতাইয়ের সময় চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত তরুণী চিকিত্সাধীন অবস্থায় ছয়দিন পর মারা গেছেন। চট্টগ্রামেই এক পোশাক কারখানার কর্মকর্তার কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে পুলিশ একাধিক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে কিছু টাকাও উদ্ধার করে। শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। বুঝা যায় নৃশংস হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারীরা। ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ছিনতাই ঠেকাতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন কমিশনার। ছিনতাই বন্ধে টহল পুলিশের কার্যক্রম জোরদার করা এবং পুলিশ ক্যাম্প ও ফাঁড়িগুলোকে সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও এসব দাওয়াই কোনো কাজে আসছে না। ছিনতাই পরিস্থিত নিয়ে এখন পুলিশ কর্মকর্তারাও উদ্বিগ্ন।  সেদিন দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুজন নিহত হন। তারপরও ডিবি ও থানা পুলিশকে দিয়ে টিম গঠন করে ছিনতাই বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত দুই মাসে ছিনতাইকারীর হাতে শিশু, নারীসহ চারজন খুন হয়েছেন। টিকাটুলিতে চলন্ত বাসে দুই মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে প্রায় ৬০ হাজার টাকা ছিনতাই, কলাবাগানে চালককে কুপিয়ে একটি প্রাইভেটকার ছিনতাই, নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে গুলি করা,  উত্তরায় দিনদুপুরে মা-মেয়েকে গুলি করে পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাই, ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে গুলি করে ছয় লাখ টাকা ছিনতাই ইত্যাদি ঘটেই চলেছে।

 ছিনতাই রোধে অবশ্যই ছিনতাইকারীদের ধরে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ছিনতাইকারীদের জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো ছিনতাইয়ে জড়িত হওয়া খুবই উদ্বেগের। এ ধরনের ঘটনার আইনি প্রতিরোধের কথাও সংশ্লিষ্টদের ভাবা দরকার। সহজে জামিনে বেরিয়ে এসে তারা যেন আবার এসব অপরাধে জড়াতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। সড়কে নিরাপত্তার পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থাকে জোরালো করার কোনো বিকল্প নেই।

n লেখক :শিক্ষার্থী, কাপাশিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর