শেষ সময়ে ফুটপাতে কেনাকাটার ধুম

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৯, ২১:৩৭

ঈদবাজারের শেষ সময়ে নামি-দামি শপিংমলের পাশাপাশি জমে উঠেছে ফুটপাতের  কেনাবেচা। ফুটপাতের পণ্যসামগ্রী দামে কম হলেও মানের দিক থেকে  একেবারেই ফেলনা নয়। হকাররা বলছেন, তাদের দোকান ভাড়া লাগে না তাই কম দামে বিক্রি করতে পারে পণ্য। তবে এবছর ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে অভিযান চলায় রমজানের প্রথম থেকে মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত বেচাকেনা ছিল তুলনামূলক কম। ঈদবাজারের শেষ সময়ে ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে কিনে নিচ্ছেন প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী। এর মধ্যে আতর-টুপি-জায়নামাজ কিনতে দেখা যায় অনেককে। এসব কেনার জন্যে ভালো বায়তুল মোকাররম মার্কেটের ফুটপাত। এখানে আতর-সুরমা কিনতে দেখা যায় আতাউর রহমান নামের একজন ক্রেতাকে। তিনি বলেন, এসব কেবল ঈদ উপলক্ষেই কিনে থাকি। তিনি বলেন, আমার মা বলেন, সুরমা লাগানো সুন্নত, তাই কিনি এবং ঈদের দিন একটু লাগাই।

এদিকে হকারদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠেছে ফুটপাতগুলো। আর তাদের পণ্যের চলমান বিজ্ঞাপনে ক্রেতা সাধারণের উপস্থিতি থাকে সবসময়েই বেশি। তবে একটু দেখে-শুনে দরদাম করে কিনতে পারলে ভালোমানের পণ্য পাওয়া যায় ফুটপাতেও। ফুটপাতের অনেক দোকানেও আবার ‘একদর’ লেখা এবং তারা হাঁকতে থাকেন একদর একদর বলে। হকার আইয়ূবুর বলেন, তার দোকানে  মেয়েদের হিজাব, টি-শার্ট ও লেডিস টি-শার্ট পাওয়া যাচ্ছে। রিকশাওয়ালা একরাম কিনছিলেন ছেলের জন্যে টি-শার্ট। তিনি বলেন, আমাদের জন্যে এই ফুটপাতের দোকানই ভালো।

গার্মেন্টস কর্মী ফাতেমা আক্তার বলেন, আমি বাজেটের মধ্যে বাড়ির সবার জন্যে কাপড় কিনতে এখানে এসেছি। এখানে সস্তায় মায়ের শাড়ি, বোনের জামা আর আমার মেয়ের জন্য ফ্রক কিনেছি। নিউমার্কেটের নিচতলার দোকান ও সিঁড়ির নিচের দোকানগুলোতে বেশ চমত্কার পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। দোকানি আজহার মিয়া বলেন, ‘ফুটপাতে আইলে সবাই দাম কম কয়। দাম নিয়া প্যাচাল পাড়তে হয় বেশি। দামাদামি করতে ভালোও লাগে না। হ্যার লাইগা একদর লাগাইছি। কেউ কিনলে কিনবো, না কিনলে যাইবো।’ গুলিস্তানের ফুটপাতে শার্ট কিনতে দেখা যায় সোহেল রানাকে। তিনি বলেন, ‘আমি এ পথে বাড়ি ফিরি। তাই ফুটপাত থেকে শার্ট, টি-শার্ট, স্যান্ডেল, ছাতা, ব্যাগ, আরো অনেক ধরনের পণ্য কিনে থাকি। মার্কেটের চেয়ে বেশ সস্তায় এখান থেকে কেনা যায় পণ্য। সোহেল রানা বলেন, তবে ফুটপাতে কাপড় কিনতে হলে দাম-দর করা জানতে হবে। হকাররা অনেক সময় একটা পণ্যের চার-পাঁচগুণ বেশি দাম চেয়ে থাকে । দাম না জানলে ঠকতে হবে। আর দাম জানলে সহজে আপনি ক্রয় করতে পারবেন।

রাজধানীর ফুটপাতের সবচেয়ে বড় বাজার বসে মতিঝিল, গুলিস্তান, ঢাকা কলেজের সামনে,  ইডেন কলেজের সামনে, মিরপুর এলাকায়। এসব জায়গা ফুটপাতের বাজার হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছে দেশজুড়ে। গাউছিয়া ও নিউমার্কেটের ফুটপাত ঘিরে রয়েছে টি-শাট, মেয়েদের ট্রাউজার, পোশাক ও স্যান্ডেলের বিশাল বাজার। ঢাকাসহ সারাদেশের সব বয়সের মেয়েদের কাছে এই স্যান্ডেলের বাজার অনেক জনপ্রিয়। যে কোনো ধরনের স্যান্ডেল পাওয়া যায় এখানে। দাম পড়বে ১৫০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত। এসব ফুটপাতে নিম্ন-আয়ের মানুষরাই যে শপিং করে তা নয়; এসব জায়গায় উচ্চবিত্তদের আনাগোনাও থাকে বেশি। গুলশান থেকে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের ফুটপাতে ল্যাগিন্স, জ্যাগিন্স কিনতে এসেছেন তিন বান্ধবী সুচি, সুরমা ও মিথিলা। তারা বলেন, এখানে অনেক সস্তায় এসব পাওয়া যায়। যা বড় কোনো ব্র্যান্ডের শোরুমে অনেক বেশি দাম রাখে। তারা বলেন, এখানে যে পণ্যগুলো পাওয়া যায় তা  মূলত নতুন কিন্তু কোথাও হয়তো  সামান্য খুঁত থাকে। জামার নিচে খুব সামান্য দেখা যাবে, তাই এখান থেকেই একটু কম দামে তা কিনতে  এসেছি। ফুটপাতের দোকানগুলোতে পাওয়া যায় নানা চেক ও ডিজাইনের শার্ট। জায়গা ভেদে এসব শার্টের দাম পড়বে ২০০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকায়। টি-শার্টের দাম পড়বে ৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায়। জিন্স প্যান্টের দাম পড়বে ২০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত।