বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঠাকুরগাঁওয়ে পেট্রোলের তীব্র সংকট

আপডেট : ০৬ মে ২০২২, ০৩:০৫

তীব্র পেট্রোল সংকটে পড়েছে ঠাকুরগাঁও। প্রায় এক সপ্তাহ থেকে জেলা জুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না পেট্রোল। এ ব্যাপারে কোনো ঘোষণা না থাকায় পাম্পে এসে পেট্রোল না পেয়ে অনেকটাই বিপাকে পড়ছে পেট্রোল চালিত যানবাহনের চালকেরা। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ এবং খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ডিপো থেকে পেট্রোল সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান মিলবে তা কেউ বলতে পারছেন না।

সংকট শুরুর পর থেকে পেট্রোল না থাকায় বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে অকটেন ব্যবহার করছিল বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। তবে বৃহস্পতিবার থেকে কিছু ফিলিং স্টেশনে অকটেন নেই জানিয়ে স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেল চালক সোহান বলেন, ঈদের তিন দিন আগ থেকে পেট্রোল পাচ্ছি না। কি কারণে পেট্রোল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে তার সঠিক উত্তর দিতে পারে না ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ। ফলে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।

পেট্রোল সংকটের বিষয়ে কাদের ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রুহুল আমিন জানান, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে কি কারণে সেটা আমার জানা নেই। পেট্রোল না দিতে পারায় আমাদের অনেক কাস্টমার ফিরে যাচ্ছেন। এই সমস্যা ঠাকুরগাঁওয়ের সকল ফিলিং স্টেশনই। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই। সঙ্গে কিছু বড় বড় গ্যালন নিয়ে চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে এসেছেন প্রাইভেট কার চালক সৌরভ। গ্যালন নিয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি পেট্রোলে গাড়ি চালাই। তবে পেট্রোল না থাকায় এতদিন অকটেন ব্যবহার করছিলাম। কিন্তু অনেক পাম্পে এখন অকটেনও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই গাড়ির ট্যাংক ফুল করে গ্যালনেও স্টক করে নিচ্ছি। কারণ অকটেনও যদি শেষ হয়ে যায়, তাহলে গাড়ি বাসায় বসে থাকবে।

অকটেনের সংকট দেখিয়ে স্টেশন বন্ধ করা বাঁধক কাঁকন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রশিদুল ইসলাম জানান, ঈদের আগেই আমাদের পেট্রোল শেষ হয়ে যায়। এতে অকটেনের ওপরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। দ্রুতই অকটেনও শেষ হয়ে যায়। তিনি জানান, আমাদের গাড়িতে দুই পার্ট করা। এক গাড়িতেই একদিকে অকটেন ও অপরদিকে পেট্রোল নিয়ে আসি। তবে ডিপোতে এখন পেট্রোল দিচ্ছে না। গাড়িতে শুধু অকটেন আনতে গেলে খরচ বেশি পড়ছে। তাই অকটেন সরবরাহ বন্ধ রেখেছি। ডিপোতে অকটেনের কোনো সংকট নেই। মেসার্স সুরমা ফিলিং স্টেশনের মালিক মোস্তফা কামাল বলেন, পেট্রোল সরবরাহ না দিতে পারায় এবার ঈদে চরম ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে। ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছি। আশা রাখি দ্রুত এর সমাধান হবে। 

ঠাকুরগাঁও পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক জানান, জেলায় ফিলিং স্টেশনের সংখ্যা ৩৬টি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৪, বালিয়াডাঙ্গি উপজেলায় দুই, হরিপুর উপজেলায় দুই, রাণীশংকৈল উপজেলায় চার ও পীরগঞ্জ উপজেলায় চারটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলায় দৈনিক পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৯০ হাজার লিটার। এর মধ্যে পেট্রোল ২৩ হাজার লিটার, অকটেন সাড়ে ১৬ হাজার লিটার ও ডিজেলের চাহিদা ৫০ হাজার লিটার। এখন জেলায় প্রায় ১৪ হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহ কম হচ্ছে। ফলে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট হয়েছে বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমেই বিষয়টি অবগত হলাম। তেলের সংকটের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে এবং অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি করে থাকে তাহলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

অধ্যক্ষকে লাঞ্ছনা: গ্রেফতার ৪ তরুণ রিমান্ড শেষে কারাগারে

ঈদ উপহার নিয়ে এতিম শিশুদের পাশে মুক্তির বন্ধন ফাউন্ডেশন 

সামনে ঈদ, সিলেট-সুনামগঞ্জের অর্ধকোটি মানুষ অসহায়

বাঘায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন অতিষ্ঠ 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপারের সময় ৩ ট্রাকচালক আটক

নববধূ সেজে ইয়াবা পাচার!  

পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না প্রিয়ন্তির 

গো-খাদ্য ও ওষুধ তৈরির কারখানা সিলগালা, লাখ টাকা জরিমানা