কেন্দুয়ায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোয়া যাচ্ছে দলিল!

আপডেট : ০৬ মে ২০২২, ০৩:৪৫

জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের একমাত্র ভরসা নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। এ অফিসে প্রতিনিয়তই সেবা পাওয়ার কথা সাধারণ মানুষের। কিন্তু সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে অনেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রায়ই ঘটছে গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড ও দলিল খোয়া যাওয়া বা গায়েব হওয়ার ঘটনা। 

সম্প্রতি কেন্দুয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের দিগলী গ্রামের মৃত ইসলাম উদ্দিন ফকিরের (লাল মিয়া) ছেলে এনামুল হাসান হক ফকির নামের এক ব্যক্তির ক্রয়কৃত ১ একর ৫৫ শতাংশ জমির এক দলিল গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। 

ভুক্তভোগী এনামুল হাসান হক ফকির জানান, তিনি একই উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের নোয়াদিয়া গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রউফের কাছ থেকে ১ একর ৫৫ শতাংশ জমি কেনেন। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসের ২৭ তারিখ কেন্দুয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এর দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হয়। যার দলিল নম্বর ৫০৩৫। 

তিনি আরো জানান, ঐ সময় তাকে মূল দলিলের ফটোকপি দেওয়া হলেও এখন মূল দলিলটি বুঝিয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। দলিল চাইতে গেলে তারা বলছেন দলিলটি অফিসে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় গত কয়েক মাস যাবত চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে এনামুল হাসান হক ফকিরকে। ঐ জমির দাতা আব্দুর রউফের সঙ্গে কথা হলে তিনিও জমির দলিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্বীকার করে বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এ রকম আরো দলিল ও রেকর্ড গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন ভুক্তভোগী জানান, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড প্রায়ই হারিয়ে বা গায়েব হয়ে যায়। এ অফিসে সাব-রেজিস্ট্রারের একটি অসাধু চক্র রয়েছে। এ চক্রটি দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড গায়েব করে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। 

জমি গ্রহীতা এনামুল হাসান হক ফকিরের বড় ভাই কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আয়কর আইনজীবী মো. শহিদুল হক ফকির বাচ্চু জানান, এস,আর অফিস থেকে আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে আপনার ভাইয়ের দলিলটা পাওয়া যাচ্ছে না। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি সংক্রান্ত কাজে সাধারণ মানুষ কোনো সেবা পাচ্ছেন না বরং হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে কেন্দুয়া সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল মোতালেবের সঙ্গে কথা হলে তিনি দলিল নিখোঁজের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হয়তো কোথাও মিসিং হয়েছে। তবে দলিলটি খোঁজাখুঁজি চলছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি