শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জাবির বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ

শিক্ষক-শ্রেণিকক্ষ সংকট, নেই কমনরুম

আপডেট : ০৭ মে ২০২২, ০৬:২৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। চাহিদার তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যাও অপ্রতুল। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ। এছাড়া এ অনুষদের শিক্ষকদের বসার জায়গার সংকট রয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষক কক্ষ ভাগাভাগি করে বসেন, আবার অনেকে বসার জায়গাও পাচ্ছেন না। অন্যদিকে এ অনুষদে কমনরুম না থাকায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন ছাত্রীরা।

জানা যায়, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে চারটি বিভাগের প্রায় ২০টি ব্যাচের জন্য মাত্র ৯টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। ফলে এক ব্যাচের ক্লাস শেষ হতে না হতেই অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ঐ শ্রেণিকক্ষের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে শ্রেণিকক্ষে অবস্হানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনোসংযোগে যেমন ব্যাঘাত ঘটে, তেমনি দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীরাও অস্বস্তি বোধ করেন। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা না থাকায় সময়মতো ক্লাস নিতে পারেন না শিক্ষকরা। এতে কখনো কখনো ক্লাস করার জন্য শিক্ষার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

এদিকে এ অনুষদের চারটি বিভাগের প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। ফলে শিক্ষকদের একটানা ক্লাস নিতে হয়, অন্যথায় আরেক বিভাগ থেকে শিক্ষক এনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হয়। শিক্ষক সংকট থাকার পরেও এ অনুষদে শিক্ষকদের বসার কক্ষের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। একটি কক্ষ ভাগ করে তিন জন শিক্ষক বসছেন। আবার অনেক শিক্ষক বসার জন্য ব্যক্তিগত কক্ষ না পেয়ে স্ব স্ব বিভাগের সভাপতির কক্ষ ও অফিস কক্ষে বসছেন। অন্যদিকে এ অনুষদে ছাত্রীদের জন্য কমনরুম নেই। ফলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। ছাত্রীরা প্রয়োজনীয় কাজে কমনরুমের পরিবর্তে টয়লেট ব্যবহার করছেন, অন্যথায় আবাসিক হলে চলে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের এক শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য অনুষদের জুনিয়র শিক্ষকরা যেখানে একাই একটি কক্ষ ব্যবহার করেন, সেখানে আমাদের অনুষদে সিনিয়র শিক্ষকরাও কক্ষ ভাগাভাগি করে বসছেন। অনেক জুনিয়র শিক্ষক বসার জন্য জায়গাও পাচ্ছেন না। অনুষদের একাধিক বিভাগে চরম শিক্ষক সংকট রয়েছে। এছাড়া শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায়, আমরা না চাইলেও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়।

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক নীলাঞ্জন কুমার সাহা ইত্তেফাককে বলেন, শ্রেণিকক্ষের সংকট কিছুটা কমেছে, তবে শিক্ষকদের বসার জায়গার সংকট রয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। তারা সংকট সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন। এর আগে, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ অন্য ভবনে স্হানান্তর হওয়ায় আমরা তাদের আগের ভবনটি নিতে চেয়েছিলাম, তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি