এর আগেও অনেক ভালো ম্যাচ খেলেছি

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৯, ২২:১৫

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জয়কে বিশ্বকাপে এ যাবত্ বাংলাদেশের সেরা পারফরমেন্স হিসেবে মানতে নারাজ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। রবিবার এখানে এক সংবাদ সম্মেলনে

সাংবাদিকদের এমন কথা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘মোটেই না। আমরা এর আগেও অনেক ভালো ম্যাচ খেলেছি। ২০০৭, ২০১১, ২০১৫ বিশ্বকাপে আমরা ভালো খেলেছি। যদি বিশেষভাবে আজ দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে এই ম্যাচটির কথাই আপনি বলেন, তাহলে আমি বলবো যে এটাই আমাদের একমাত্র সেরা ম্যাচ নয়। তবে এটা সেরা ম্যাচগুলোর মধ্যে একটা।’ এত বড় জয়ের পরও বাংলাদেশ দলকে নিয়ে যারা নিন্দা করছে, তাদের ব্যাপারে মাথা না ঘামাতেই বললেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। 

রবিবার ম্যাচ শেষে মাশরাফি যখন সংবাদ সম্মেলনে এলেন, তখন তার মুখে ছিল আত্মবিশ্বাসের হাসি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এমন জয়ে নিজের উচ্ছ্বাসকে আড়াল করতে পারেননি এর আগে অনেক বড় বড় জয়েও নির্লিপ্ত থাকা এই অধিনায়ক। প্রোটিয়া বধের পেছনে পুরো টিমের অবদানের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন অধিনায়ক। অধিনায়ক বলেন, ‘আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি। খেলার আগে প্রত্যেকটা টিমই পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা সবসময় যে কাজে লাগে এমন নয়। সেখানে ভাগ্য সহায় থাকতে হয়। এই টুর্নামেন্টেও যদি আপনি সেরাটা করতে চান তাহলে সবসময় ভাগ্য সহায় হতে হবে।’ মাশরাফি বলেন, ‘আজকের ম্যাচটার কথাই যদি ধরেন তাহলে দেখবেন যে, মিরাজের যে কয়টা বল টার্ন করেছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি টার্ন করেছে ফাফ দু প্লেসিস আউট হওয়ার ওই বলটা। বলটা এতটা টার্ন করবে সেটা কেউ আশা করেনি।’ 

ম্যাচ জয়ের পেছনে সাকিব আর মুশফিকের অবদানকে বিশেষ স্বীকৃতি দিতে ভোলেননি অধিনায়ক। প্রসঙ্গক্রমে তার বক্তব্যে উঠে এল গত চারটি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে সাকিবের টানা চার ফিফটির কথা। অধিনায়ক বলেন, ‘সাকিব আমাদের সেরা খেলোয়াড়। শুধু আজকের ম্যাচ বলে না, সাকিব এখন বিশ্বের অন্যতম একজন স্বীকৃত খেলোয়াড় যাকে সবাই অন্য চোখে দেখে। আমি বা আমরা কিভাবে তাকে দেখি, এটা জরুরি না। আমি নিশ্চিত যে সাকিবও এজন্য গর্ব বোধ করে। আর সাকিবই আমাদের একমাত্র ক্রিকেটার যে গত চারটি বিশ্বকাপ খেললো এবং প্রতিবারই প্রথম ম্যাচে তার ফিফটি আছে। এটা ওর জন্য একটা ভালো স্মৃতি। আজ ওভালে তারা (সাকিব আর মুশফিক) যা করেছে, আগেও তারা এ ধরনের ইনিংস অনেক খেলেছে। এটা আমার কাছে নতুন কিছু মনে হয়নি। অনেক কঠিন সময়ে ওরা ম্যাচ বের করে এনেছে। ওরা দুজনে চাপ সামাল দিয়ে অভ্যস্ত। ৭৫ রানে দুই উইকেট যাওয়ার পর যদি আর একটা উইকেটও পড়তো তাহলে হয়তো এত বড় স্কোর নাও হতে পারতো। ওরা দুজন তখন চাপ সামাল দিয়ে ইনিংস মেরামত করেছে। এরকম ইনিংস ওদের থেকে সবাই আশা করে।’ 

গতকাল টসে হারাটা শাপেবর হয়েছে বলে মনে করেন মাশরাফি। বলেন, ‘মনে হয় টসে হারাটাই ভালো। তারা আমাদেরকে ব্যাটিং দিয়েছে। আমরা একটা পুরোনো উইকেটে খেলেছিলাম। এরকম উইকেটে যে কোনো কিছুই হতে পারে। প্রথমে ব্যাট করাটাই ভালো। এই উইকেটে স্পিনাররা বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।’

বাংলাদেশ ৩৩০ করলো। কিন্তু তারা বেশ সাবলীল ভঙ্গিমায় খেলেছে। স্কোরিং শটগুলোতে ওইরকম ঝুঁকি নেয়নি কেউ। এ থেকে কি বাংলাদেশ এই শিক্ষা অর্জন করতে পারল যে ৩০০ প্লাস করতে হলে আসলে খুব বেশি তাড়াহুড়া করতে হয় না বা অযথা ঝুঁকি নিতে হয় না। এমন প্রশ্নের উত্তরে মাশরাফি বলেন, ‘এটা মনে হয় ব্যাটসম্যানরা আরো ভালো বিশ্লেষণ করতে পারবে। দেখতে খুব ভালো লেগেছে যে তারা ঝুঁকিবিহীন ইনিংসটা বিল্ড করেছে। এই ধরনের উইকেটে বেশি ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। মন্থরগতির উইকেট হলে হয়তো বা এ ধরনের রিস্ক নেওয়ার প্রয়োজন হয়। আমার কাছে মনে হয়, এ ধরনের উইকেটে থিতু হতে প্রথমে একটু সময় নিতে হবে। যত বেশি সময় পার করা যাবে খেলাটা তত সহজ হবে। আমাদের ব্যাটসম্যানরা এটা বুঝতে পেরেছে। এই আইডিয়াটা মাথায় রাখলে পরের ম্যাচে আরো সুবিধা হবে।’