ঈদের খুশি লাগুক প্রাণে

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৯, ২২:১৬

শেষ হয়ে এলো রহমত-বরকত-নাজাতের অমিয়ধারায় সিক্ত মাহে রমজান। এখন মানুষের মনপ্রাণ উছলে উঠছে ঈদের আনন্দ রোশনাইয়ে। এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে খুশির সওগাত নিয়ে আসছে ঈদুল ফিতর। আজ শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য ও উত্সাহ-উদ্দীপনায় উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে ৩০ রোজা হলে ঈদ হবে আরো একদিন পরে। ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ, তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ’— সুরের দ্যোতনায় জেগে উঠবে ঈদের আনন্দ উপভোগের আশায় উদ্বেল কোটি কোটি মোমিন মুসলমানের প্রাণ।

প্রিয়নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্ল­াহু আলাইহে ওয়া সাল্ল­াম বলেছেন,‘চাঁদ দেখে রোজা পালন করবে এবং চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করবে।’ তিনি বলেছেন, ‘চান্দ্র মাস ২৯ দিনেও হয় আবার ৩০ দিনেও হয়। যদি আকাশে মেঘ থাকায় চাঁদ দেখা না যায় তবে ৩০ দিনের গণনা পূর্ণ করবে।’ রাসুলুল্লাহ (সা) এ প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন যে,‘সংযম সাধনার পর ঈদের দিনে রোজাদারগণ শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে যান।’ ঈদুল ফিতর আরবি শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে উত্সব, আনন্দ, খুশি। রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজানের অবসানে ঈদের চাঁদ দেখামাত্র ছোট-বড়, ধনী-গরিব, প্রতিটি মুসলমানের হূদয় আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠে। এই দিনে ধনী-গরিব, বাদশা-ফকির নির্বিশেষে সব মুসলমান এক কাতারে ঈদের নামাজ আদায় করেন, একে অপরের সঙ্গে সালাম বিনিময় ও কোলাকুলি করেন। আর মুখে দোয়া পড়েন ‘তাকাব্বালাল­াহু মিন্না ওয়া মিনকুম্ (আমাদের ও আপনাদের সত্কর্মগুলো আল্ল­াহ কবুল করুক)। ঈদের দিন আল্ল­াহর রাসুলের সাহাবিগণ পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাত্কালে এই দোয়া করতেন।

ঈদ মুসলিম উম্মাহর জাতীয় উত্সব। ঈদুল ফিতরের দিনটি প্রতিটি মুসলমান নারী ও পুরুষের জীবনে তাত্পর্যে ও মহিমায় অনন্য। আইয়্যামে জাহেলিয়াত বা ইসলাম প্রাক্কালীন অন্ধকার যুগেও আরবে ‘নাইরোয’ ও ‘মেহেরজান’ নামক দুইটি বাত্সরিক উত্সব ছিল অধিক জনপ্রিয়। হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্ল­াম মক্কা হতে মদীনায় হিজরত করে দেখতে পান যে, এই দুইটি জাতীয় উত্সবে মদীনার আবাল বৃদ্ধ বনিতা নানা প্রকার স্থূল খেলায় মেতে উঠেছে। তখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল­াম তাদের লক্ষ্যহীন আনন্দ-উত্সবের সেই পদ্ধতির পরিবর্তে মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধির পবিত্র স্পর্শমণ্ডিত এবং বহুবিধ কল্যাণধর্মী ঈদুল ফিতরের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘লিকুলি­ কওমিন ঈদ, হা-যা ঈদুনা’ অর্থাত্ প্রত্যেক জাতির বাত্সরিক আনন্দ-ফুর্তির দিন আছে। ঈদের দিন হচ্ছে আমাদের জন্য সেই আনন্দ-উত্সবের দিন। এইভাবেই হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে মুসলিম জীবনে প্রবর্তিত হলো ঈদ উত্সব।

ঈদ বাংলাদেশে সার্বজনীনতা লাভ করেছে। ধর্মের গণ্ডি পার হয়েও ঈদের এ সার্বজনীনতা প্রসারিত। এজন্য পাড়া-প্রতিবেশী ধর্ম ও সামাজিক কাঠামোর যে শ্রেণিরই লোক হোক, তাকে ঈদের আনন্দে শরিক করা কর্তব্য। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় : ‘আজি আরাফাত ময়দান পাতা গাঁয়ে গাঁয়ে,/কোলাকুলি করে বাদশাহ্ ফকিরে, ভায়ে ভায়ে’.... ‘আজি ইসলামী ডঙ্কা গরজে ভরি জাহান/নাই ছোট-বড় সকল মানুষ এক সমান!’ ইসলাম বলে, সকলের তরে মোরা সবাই,/সুখ-দুখ সমভাগ করে নেব সকলে ভাই,/নাই অধিকার সঞ্চয়ের..।’ তবে ভেবে দেখার বিষয় হলো— একমাস সিয়াম সাধনা শেষে দরিদ্ররা কি ঈদের সেই আনন্দ ভেলায় ভাসতে পারছে? কবির কণ্ঠে তাই ধ্বনিত হয়েছে : ‘জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নিদ/মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ?’ ঈদের আগেই প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানকে তাই জাকাত ও সাদকায়ে ফিতর দিতে হবে। এটা আল্ল­াহর বিধান।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক পৃথক বিবৃতিতে দেশবাসীর প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

দেশবাসীকে জেপির শুভেচ্ছা

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান এবং সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে তথা মুসলিম উম্মাকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে জেপি নেতৃদ্বয় বলেন, এবারের ঈদুল ফিতর আমাদের দেশে এসেছে এমন এক সময়ে যখন বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিকভাবে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে এবং ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও পশ্চাত্পদতার শৃঙ্খলকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে অগ্রগতির দিকে এগিয়ে চলেছে। এবারের ঈদুল ফিতর আমাদের জনগণের জীবনে কল্যাণ ও সমৃদ্ধি বয়ে নিয়ে আসুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ঈদুল ফিতর মুসলিম জাহানের ঐক্য ও সংহতির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। আমরা চাই দেশের প্রতিটি মানুষ আমাদের মুসলমানদের এই সর্ববৃহত্ উত্সবে শরিক হোক। ঈদ আমাদের সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি, সৌহার্দ্য ও সাম্য।