সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পায়ের চাকায় জীবনের চাকা ঘুরবে অন্তরের 

আপডেট : ০৮ মে ২০২২, ১৭:২৪

অন্তর মিয়া (১৮)। জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী। নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের পাড়া দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা। বাবা হাবিল মিয়া একজন হতদরিদ্র কৃষক। অন্তরের চলাচলের জন্য একটি হুইলচেয়ারও কিনে দিতে পারছিলেন না। এমন অবস্থায় তার পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নবছায়া’।     

বাবা হাবিল মিয়ার স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ ৪ সদস্যের পরিবার। বড় ছেলে অন্তর মিয়া শারীরিকভাবে অক্ষম। তিনি হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করছিলেন। অভাব-অনটনের সংসারে তাকে নিয়ে চরম কষ্টে দিনযাপন করছিলেন মা-বাবা। সন্তানের চলাফেরার জন্য একটি হুইলচেয়ার কিনে দেওয়ার সামর্থ্যটুকুও নেই তাদের। 

জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী অন্তর মিয়া (১৮)।

ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নবছায়া’। সংগঠনের সদস্যরা ছুটে যান অন্তরের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে তারা কিশোর অন্তরসহ তার পরিবারের খোঁজ-খবর নেন।  অন্তরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় সংগঠনটি লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে অন্তরকে তার বাড়িতে একটি আধা পাকা দোকানঘর নির্মাণ করে দেন। এ ছাড়া, দোকানঘরের আসবাবপত্র কেনার জন্য অতিরিক্ত আরও ১০ হাজার টাকা দেন তারা।

এদিকে, গত শনিবার (৭ মে) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় অন্তর মিয়ার জন্য নবছায়া সংগঠনের নবনির্মিত দোকানঘরটি। 

‘নবছায়া-অন্তর স্টোর’নামে ওই দোকানঘর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি আয়েশ উদ্দিন ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রনি, সমাজসেবক মামুনুল কবীর খান হলি, শাহ আলী তৌফিক রিপন, শিক্ষক আমিরুল ইসলাম তালুকদার, ফেসবুক ভিত্তিক সংগঠন হৃদয়ে কেন্দুয়া’র সভাপতি সাজ্জাদ খান, সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। 

এ সময় অন্তর মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ফিতা কেটে দোকানঘরের উদ্বোধন করেন নবছায়া সংগঠনের সভাপতি আয়েশ উদ্দিন ভূইয়াসহ অন্যরা। অন্তরের চলাচলের সুবিধার্থে এ সময় সমাজসেবক মামুনুল কবীর খান হলি নিজের পক্ষ থেকে একটি হুইলচেয়ার তুলে দেন।

অসহায় অন্তর মিয়াকে স্বাবলম্বী করতে নবছায়া’র এমন উদ্যোগে দারুণ খুশি তার পরিবারসহ এলাকার লোকজন। হাসি ফুটেছে সবার মুখেও।

অন্তরের বাবা হাবিল মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলের সুখের কথা চিন্তা করে যারা দোকানঘর করে দেওয়াসহ হুইলচেয়ার ও টাকা-পয়সা দিয়েছেন, আমি তাদের ঋণ কোনো দিন শোধ করতে পারবো না। এতসব করা আমার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুক।’ 

স্থানীয় আশুজিয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ মিয়া বলেন, ‘নবছায়া সংগঠন জন্মগত প্রতিবন্ধী অন্তর মিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে একটি মহৎ কাজ করেছে। এমন মহৎ কাজে সমাজের লোকজনকে বেশি বেশি এগিয়ে আসা উচিত।’

এনিয়ে কথা হলে নবছায়া’র সভাপতি আয়েশ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘আমরা অসহায় অন্তরের অতিকষ্টে দিনযাপনের বিষয়টি জানার পর তার বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে তার পরিবারের দুরবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারি এবং অন্তরকে স্বাবলম্বী করতে তাকে একটি দোকানঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করি। আমাদের এ কাজে অনেকেই সহযোগিতা করেছেন। সমাজের অসহায় একজন সদস্য অন্তর মিয়াকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে দোকানঘরটি করে দিতে পেরে আমরা খুবই আত্মতৃপ্তি পেয়েছি। নবছায়া’র এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’  

/এএইচ/

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সিলেটে বন্যা: শুধু মৎস্য খাতে ক্ষতি ২৬ কোটি টাকা

সিলেট

বন্যায় বিশুদ্ধ পানির সংকট

বিশেষ সংবাদ

ফুটপাত হকারদের দখলে, বাধ্য হয়ে মূল সড়কে পথচারীরা!

দুই বছর পর মনোহরগঞ্জে আবারও পত্রিকা সরবরাহ শুরু

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বরিশালে ভূমি সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন

মাঠেই নষ্ট হচ্ছে ধান, হাজার টাকায়ও মিলছে না শ্রমিক 

সিলেটে বন্যায় কৃষিজমি পানির নিচে, খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

পাহাড়ি ঢল কিছুটা থামলেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত সিলেটে