বাগেরহাটে ৫০ হাজার জেলে পরিবারে ঈদ আনন্দ নেই

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৯, ২২:১৮

ইলিশের ভরা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন মাছ আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবারের ঈদ আনন্দ বেদনায় পরিণত হয়েছে জেলার ২৭ হাজার জেলেসহ আড়তদার, পাইকার ও মাঠপর্যায়ে মাছ বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত ৫০ হাজারেরও বেশি পরিবারে। এ অবস্থায় জেলেরা দ্রুত নিষেধাজ্ঞা তুলে মাছ ধরার অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলার গরিব মানুষের একটি বড় অংশই মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। নদীতে মাছ না থাকায় সাগরের মাছের ওপর নির্ভর করেই চলে তাদের জীবন-জীবিকা। ২০ মে-২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরের অর্থনৈতিক অঞ্চলে মত্স্য বিভাগ থেকে সব ধরনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় বিপাকে পড়েছেন জেলেরা।

মোংলা উপজেলার জয়মনি এলাকার জেলে আব্দুল মালেক ফরাজী বলেন, এমনিতেই সংসারে অভাব, তার ওপর রাত পোহালেই ঈদ, মাছ না ধরতে পারায় হাতে কোনো টাকা নেই। ঈদে ছেলে-মেয়েদর মুখে কীভাবে এক মুঠো খাবার তুলে দেব সেই চিন্তায় আছি।

কচুয়া উপজেলার ট্রলার মালিক আক্কাস আলী বলেন, বিভিন্নভাবে ধার-দেনা করে চড়া সুদে লোন নিয়ে জেলেদের দাদন (অগ্রিম টাকা) দিয়েছি। ইলিশের ভরা মৌসুমে জেলেরা মাছ ধরতে না পারায় এখন আমরা পথে বসেছি। এখন সুদের টাকা পরিশোধ করতে ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করতে হচ্ছে।

উপকূলীয় মত্স্যজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইদ্রিস আলী জানান, সাগরে মাছ ধরতে না পারায় জেলার ২৭ হাজার জেলেসহ আড়তদার, পাইকার ও মাঠপর্যায়ে মাছ বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত ৫০ হাজারেরও বেশি পরিবারে এবার ঈদ আনন্দ বেদনায় পরিণত হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশে যখন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা, তখন ভারতের জেলেরা নির্বিঘ্নে মাছ ধরে চলেছেন। তাই ভারতের অংশে যখন নিষেধাজ্ঞা থাকে, একই সময় বাংলাদেশ অংশে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান এ মত্স্যজীবী নেতা।