শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ

কোথাও ভোগান্তি, কোথাও স্বস্তি

আপডেট : ০৯ মে ২০২২, ০৩:০৯

ঈদ শেষে কর্মস্থলগামী মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। দৌলতদিয়া ঘাট অভিমুখে মহাসড়কে নদী পারের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে হাজার হাজার যানবাহন। মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটে ছিল ঢাকামুখী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ। ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতূ পূর্ব ৮ কিলোমিটার মহাসড়কে ধীরগতিতে যানজট। তবে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে গাড়ির চাপ বাড়লেও যানজট নেই।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান, ঈদ শেষে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় কর্মস্থলে ফিরছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষ। দৌলতদিয়া ঘাটে গত তিন দিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার তারা। মহাসড়কে নদী পারের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে হাজার হাজার যানবাহন। রবিবারও কর্মস্থলমুখী মানুষের চাপ অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ যানজটে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে যানবাহন। সকালে ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ জমিদার ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার এলাকায় আটকে পড়ে সহস্রাধিক যানবাহন। প্রচণ্ড গরমে ভোগান্তিতে পড়ে ঈদ করতে আসা মানুষ। গাড়িতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বসে থেকে কোনো উপায় না পেয়ে ব্যাগ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে পায়ে হেঁটে ফেরিঘাটে রওনা দেয় অনেকেই। অন্যদিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ মোড় থেকে তিন শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক সিরিয়ালে আটকে রাখা হয়েছে।

এদিকে দুর্ভোগের শিকার এসব মানুষকে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি ও শরবত পান করিয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে গোয়ালন্দ পৌর ছাত্রলীগ।

ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে ২১টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ঈদের ছুটি শেষে  যাত্রী ও যানবাহন আসছে স্রোতের মতো। যাত্রী দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ছোট প্রাইভেট কার ও যাত্রীবাহী বাসকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে রবিবারও সকাল থেকে ঢাকামুখী মানুষের চাপ ছিল। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও শরীয়তপুরের মাঝিকান্দি ঘাট থেকে পদ্মা পাড়ি দিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে এসে নামছে। তবে ঘাটে নেমেই যানজটহীন রাজধানীতে রওনা হতে পারছে। তাই শিমুলিয়া ঘাটে তেমন কোনো যানজট নেই। অনেকটা বিড়ম্বনাহীন ঘাট পার হচ্ছে মানুষ। এই নৌ রুটে ১০ ফেরিতে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তবে রাতে সাতটি ফেরি চলাচল করে।

এদিকে শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, সকাল থেকেই বাংলাবাজার ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহন ও যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে যাত্রী নিয়ন্ত্রণ করে। শিমুলিয়া থেকে খালি লঞ্চ-ফেরি-স্পিডবোট এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। মাত্র ছয়টি ফেরি দিয়ে পারাপার করায় বাংলাবাজার ফেরিঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে চার শতাধিক যানবাহন। এছাড়া মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন পড়ে সকাল থেকেই।

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, রবিবার ভোর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু-পূর্ব মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে সল্লা পর্যন্ত আট কিলোমিটার সড়ক জুড়ে ছিল পরিবহনের ধীরগতি। তবে বেলা ৩টার পর কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

জানা গেছে, ঈদ-পরবর্তী মানুষ কর্মস্থল ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে। এছাড়া যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন জেলার লোকাল পরিবহনগুলো নিজ নিজ জেলায় যাচ্ছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে মালবাহী ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোসহ ব্যক্তিগত পরিবহন। যানবাহনগুলো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেনের সুবিধা পেলেও মহাসড়কের এলেঙ্গা-বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব ১৩ কিলোমিটার দুই লেন সড়কে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে ধীরগতি শুরু হয়ে সড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। এতে বিশেষ করে এলেঙ্গা থেকে সল্লা পর্যন্ত সড়কে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া রাতের দিকে পরিবহনের ধীরগতির কারণে সেতুর ওপর পরিবহন আটকে কয়েক বার সেতুতে টোল আদায় বন্ধ ছিল। এতে মহাসড়কে পরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দুর্ভোগ বাড়ে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঈদের ছুটির পর উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার মানুষ কর্মস্থল ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে। ফলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও যানজট নেই। তবে যানবাহনের জন্য যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কড্ডার মোড়, হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় যানবাহন না পেয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঢাকামুখী যাত্রীদের। অন্যদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে যে যেভাবে পারছে ঢাকায় ফিরছে। এছাড়া মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপও বেড়েছে। তবে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের কোথাও কোনো যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। স্বাভাবিক গতিতে চলছে যানবাহন।

সিরাজগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান সালেক বলেন, ‘সকাল থেকে ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের চলাচল বাড়ে। তবে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকলেও কোথাও কোনো যানজট বা ধীরগতি নেই। যানবাহন নিরাপদ ও যানজটমুক্তভাবে চলাচলের জন্য আমরা মহাসড়কে কাজ করছি।’

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কালের সাক্ষী আদমজীর জানালা কপাটবিহীন বড় জামে মসজিদ

সাহিত্য একাডেমির আয়োজনে নজরুল জন্মোৎসব

বিশেষ সংবাদ

সিলেটে বন্যায় হাজার কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

মিরসরাইয়ে র‌্যাবের ওপর হামলা: গ্রেফতার আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কিশোরগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে

সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

সাভারে দুটি অনিবন্ধিত হাসপাতাল সিলগালা

সুন্দরবনের কটকায় হরিণের মাংসসহ শিকারি আটক