রাজপ্রাসাদে ট্রাম্পকে স্বাগত জানালেন রানি

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৯, ২২:২৮

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বাকিংহাম প্যালেসে স্বাগত জানালেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। গতকাল সোমবার তিন দিনের সফরে লন্ডনের একটি বিমানবন্দরে এয়ারফোর্স ওয়ানে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়াকে নিয়ে অবতরণ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে সফরের আগেই তিনি লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন। এছাড়া তার সফরকে কেন্দ্র করে রাজপ্রাসাদের বাইরেসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, ব্রেক্সিট এবং চীনের হুয়াও ইস্যু গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম দিনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল বাকিংহ্যাম প্রাসাদে রানি এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাত্ ও মধ্যহ্নভোজ, ওয়েস্টমিনস্টার গির্জা সফর, অনামী যোদ্ধাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাত এবং রাতে বাকিংহ্যাম প্রাসাদে নৈশভোজ। লন্ডনের স্টানস্টেড বিমানবন্দরে অবতরণের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় বলেন, আমি যুক্তরাজ্যের বড় বন্ধু হতে চাই। এই সফরে সেক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হবে বলে আশা করি। বিমানবন্দরে প্রেসেডন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়াকে লাল গালিচায় স্বাগত জানান ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এবং যুক্তরাজ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত উডি জনসন। এরপর তাদেরকে শোভাযাত্রাসহকারে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। মধ্য দুপুরে তারা বাকিংহাম প্রাসাদে যান যেখানে প্রিন্স চার্লস তাদের স্বাগত জানান। পরে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রাসাদের ভেতরে নিয়ে যান এবং একসঙ্গে দুপুরের খাবার খান।

সাদিক খানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, বিক্ষোভ

ট্রাম্পের সফরকে কেন্দ্র করে এমন সব বিতর্ক ও ঘটনা সৃষ্টি হয়েছে যা অনেক দিক থেকেই নজিরবিহীন। কয়েকদিন আগেই লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ‘নারী ও ইসলাম’ সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভুল ধারণার তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘একবিংশ শতাব্দীর ফ্যাসিস্ট’ বলে বর্ণনা করেছেন। আর জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, সাদিক খান একজন ‘স্টোন-কোল্ড লুজার’। এমনকি ব্রিটিশ রাজবধূ মেগান মার্কেলের সঙ্গেও বিরোধে জড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি মেগানকে ‘নোংরা’ বলে অভিহিত করেছেন। অডিও রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও তিনি পরে অস্বীকার করেন।

বিরোধী দল লেবার পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতাসহ বেশ কিছু রাজনীতিবিদ ট্রাম্পের সম্মানে দেওয়া নৈশভোজ বয়কট করার কথা জানিয়েছেন। লন্ডনে বিক্ষোভকারীরা তার সফরের প্রতিবাদ জানাতে এমন একটি মানবাকৃতির বেলুন ওড়ান যাতে ট্রাম্পকে অতিকায় ন্যাপি পরা শিশু হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এ সফরকে ব্রিটেন ও আমেরিকার বিশেষ সম্পর্ক জোরদারের সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। থেরেসা মে কয়েকদিন পরেই বিদায় নেবেন। ট্রাম্পের সফরের প্রতিবাদে লন্ডন, ম্যানচেস্টার, বেলফাস্ট এবং বার্মিংহামসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হচ্ছে।