সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে অর্ধেক ব্যাংক

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৯, ২২:৩০

আর্থিক লেনদেনের পরিধি বিস্তৃত হলেও প্রযুক্তিগত সুরক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে আছে দেশের ব্যাংকিং খাত। মোট ব্যাংকের ৫০ ভাগই সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ব্যাংক সাইবার নিরাপত্তায় নেক্সট জেনারেশন ফায়ারওয়াল সফটওয়্যার পুরোপুরি স্থাপন করতে পারেনি। যা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে, গত ৩০ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখা এবং এসব টাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে নির্দেশ দেয়। এ নির্দেশের পরও এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চক্র। কয়েকটি ব্যাংকে এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত হলেও ডাচ্-বাংলা ব্যাংক বেশি অ্যাটাকের শিকার হচ্ছে।

ব্যাংকিং সূত্রমতে, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথ বারবার টার্গেট করা হচ্ছে। এর মানে হয়তো তাদের সুইচিং সিস্টেমে কোনো গলদ রয়েছে। ঐ ফাঁকফোকরে বাইরে থেকে সহজেই সিস্টেমে প্রবেশ করা যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, সপ্তাহ দুয়েক আগেও একই ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তুলে নেয় বিদেশিরা। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকেও আলোচনা হয় এবং ঈদের ছুটিতে ব্যাংকগুলোতে বিশেষ সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। তারপরেই ঘটলো গত শুক্র ও শনিবারের ঘটনা। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে বুথ থেকে টাকা তোলা হয়। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে বছর তিনেক আগেও ব্যাপক হারে কার্ড জালিয়াতি বা ক্লোন করে টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেসরকারি খাতের আরো কয়েকটি ব্যাংকে হানা দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে দেখা যায়, এরা বিদেশি। বিশেষত ঐ সব ব্যাংকের গুলশান এবং উত্তরা এলাকার বুথ থেকে বিদেশিরা সহজে টাকা উত্তোলন করত। কিছু কিছু কার্ড বুথে আটকে গেলে সেগুলো উদ্ধার করে দেখা যায়, মাস্টারকার্ড এবং বিদেশি কিছু ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে এটিএম মেশিন ও বুথে টাকার নিরাপত্তা ইস্যুটি আলোচনায় চলে আসে। নতুন করে বিশেষ চিপ সংযুক্ত করা হয় কার্ডে। সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়। তথাপি বুথে টাকা জালিয়াতি কমেনি। আর ছুটির দিনকেই টার্গেট করে আত্মসাত্কারীরা। সর্বশেষ, গত শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি বুথ থেকে দুজন বিদেশি নাগরিক তিন লাখ টাকা তুলে নেয়। কিন্তু ব্যাংকের সার্ভারে এ টাকা উত্তোলনের হিসাব জমা পড়েনি। পরদিন শনিবার দুই বিদেশি নাগরিক একই বুথে ফের টাকা তুলতে গেলে একজন হাতেনাতে আটক হয়। অন্যজন পালিয়ে যায়। পরে পান্থপথের হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেন থেকে ছয়জনকে আটক করে।

ব্যাংকাররা বলেন, আগে থেকে বুথগুলোতে নানামাত্রায় সুরক্ষিত করা হয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় টাকা উত্তোলনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। বুথ থেকে টাকা উঠালেও কেন্দ্রীয় সার্ভারে তার তথ্যযোগ ঘটেনি।

এদিকে, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছে, দেশের অর্ধেক ব্যাংক এখনো সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। মোট ব্যাংকের ৫০ ভাগ সাইবার নিরাপত্তায় সর্বশেষ প্রযুক্তির সফটওয়্যার স্থাপনে সক্ষম হলেও বাকিরা পিছিয়ে আছে। এসব ব্যাংক বরাবরই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিদের্শনায় বলা হয়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘোষিত ছুটির দিনে ব্যাংকের সব ব্যবসা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সাইবার নিরাপত্তাসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আপনাদের বিশেষভাবে নির্দেশনা দেওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পর ব্যাংকগুলোও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। বিশেষত বিদেশিদের ব্যাপারে বেশি সতর্কতা অবলম্বনের পন্থা গ্রহণ করা হয়েছে।