বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

তুরস্কে দৃষ্টিনন্দন ‘বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল পার্ক’

আপডেট : ১০ মে ২০২২, ১৭:১১

মাঠের চারদিকে সবুজ ঘাস। এর মধ্যে কিছু ঘাসে দেওয়া হয়েছে লাল রঙ। সে ঘাসে হাঁটতে গেলে মনে হয়, যেন লাল গালিচা বিছানো কোনো পথ ! পাশেই মাঠের মধ্যে ছোট ছোট শিশু-কিশোররা মেতেছে হরেক রকম খেলায়। এ যেন প্রাণবন্ত গোছানো এক প্ল্যাটফর্ম। দৃষ্টিনন্দন এই দৃশ্য তুরস্কের আঙ্কারায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল পার্কের। বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এই পার্কের নামকরণ করা হয়েছে। সে পার্কে ঢুকতেই প্রথমেই দেখা মেলে, কালো পাথরে লেখা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত নামফলক। এতে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনী ইংরেজি ও স্থানীয় তুর্কি ভাষায় লেখা।

তুরস্কের রাজধানীর কাচোরায় অবস্থিত এই পার্কের আয়তন প্রায় ৩৩ হাজার বর্গমিটার। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নির্মাণ করা হয় পার্কটি। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর পার্কটি উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের প্রচেষ্টায় পার্কটি নির্মাণ করে তুরস্ক।

পাকর্টি ঘুরে দেখা যায়, পুরো পার্কের মধ্যে সরব উপস্থিতি সব বয়সী মানুষের। পার্কের মধ্যে রাখা বেঞ্চের মধ্যে কেউ বসে আছে, আবার কেউ ফুটবল নিয়ে মাঠে দৌড়াচ্ছে। আবার কিছু শিশু-কিশোর   শিশু কর্ণারে দূরন্তপনায় মেতে উঠেছে। পার্কের ভেতরে তিনটি আলাদা খেলার মাঠসহ পুরো পার্কটি কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি মাঠকে বিশেষ বন্ধনী দিয়ে আলাদা করে খেলার জন্য উপযোগী করা হয়েছে। পার্কটিতে রয়েছে ফুটবল মাঠ, বাস্কেটবল মাঠ, ব্যাডমিন্টন মাঠ, ব্যায়ামাগার, শিশু কর্নার ও ওয়াকওয়েসহ সব ধরনের খেলার ব্যবস্থা। রাতে খেলার জন্য পার্কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এক পাশে ব্যায়ামাগার অন্য পাশে সাইকেল লেন। পার্কটিকে সবুজায়ন করতে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ।

পাশেই একজন মালিকে গাছের পরিচর্যা করতে দেখা গেছে। নির্দিষ্ট পোশাক পরিহিত ব্যক্তি গাছে পানি দিচ্ছেন। এছাড়া তিনি ঘাসেরও পরিচর্যা করছেন। পার্কের মধ্যে দূরন্তপনায় মেতে উঠা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিকেল হলেই বন্ধুরা মিলে এখানে চলে আসে খেলাধুলা করতে। তাদের কাছে এই পার্ক এখন অনেক প্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ, আগে এভাবে তারা সবাই মিলে খেলার সুযোগ পেতো না। পাশেই ফুটবল খেলছেন একদল কিশোর। তারা জানায়, মাঠ নির্দিষ্ট থাকায় তারা এখানে ফুটবল খেলায় মেতে উঠতে পারেন। 

হাফিজ নামে তুরস্কে পড়তে আসা বাংলাদেশি এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি পার্ক দেখতে এসেছেন। বঙ্গবন্ধুর নামে এখানে একটি দৃষ্টিনন্দন পার্ক হয়েছে তিনি শুনেছেন, তাই এটি দেখতে এসেছেন অনেক দূর থেকে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে দূর প্রবাসে এভাবে যে পার্ক নির্মাণ করা হবে, এটি স্বপ্নের মতো। আমাদের কাছে এটি অনেক গর্বের। আমরা গর্ব করে এখন বলতে পারি, এ দেশে আমাদের জাতির পিতার নামে একটি নির্দিষ্ট জায়গা পার্ক আছে। যারা এটির উদ্যেগতা তারা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। এর মাধ্যমে অনেকেই একজন স্বাধীনতাকামী মহান নেতার আত্মজীবনী সম্পর্কে জানতে পারছে। 
অন্যদিকে এখানকার বসবাসকারী বাংলাদেশীদেরও আড্ডার জায়গায়ও তৈরি হয়েছে এটি। একান্তে কিছু সময় কাটানোর জন্য তারা এই পার্ককে বেছে নিয়েছেন। প্রতিদিনই এখানে বাংলাদেশিরা ভিড় করেন। 

পার্কটির বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকার বনানী এলাকায় তুরস্কের জাতির জনকের নামে কামাল আতাতুর্ক সরণি রয়েছে। কিন্তু তুরস্কে আমাদের জনকের নামে তেমন কিছু ছিল না। সেখানে আমরা তার একটি আবক্ষ ভাস্কর্য ও তার নামে একটি সড়কের নামকরণের পাশাপাশি এই পার্কটি নির্মাণের জন্য অনুরোধ করি। পরে পার্কটি নির্মাণ করে দেওয়া হয়। আমরাও বনানী সড়ক সংলগ্ন পার্কটি কামাল আতাতুর্কের নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

তিনি জানান, তুরস্কে বঙ্গবন্ধুর নামে এই পার্কটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের। আজ তুরস্কের মতো জায়গায় জাতির জনকের নামে পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। তার আদর্শকে আমরা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চাই। 

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

কানাডায় ঝড়ে ৩ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ইতালিতে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত

আমিরাতে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি শিবলী, সম্পাদক জনি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

থাইল্যান্ডের রেডক্রস সোসাইটির মহাসচিবের সাথে রাষ্ট্রদূতের বৈঠক 

লন্ডনে আবদুল গাফফার চৌধুরীর নামাজে জানাজা শুক্রবার

আবদুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই-কমিশনের শোক 

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে মস্কোয় সেমিনার