শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কাল বৈশাখী ও বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি 

আপডেট : ১১ মে ২০২২, ১৩:১৯

বরিশাল জেলার অন্যতম শস্য উৎপাদনকারী উপজেলা আগৈলঝাড়ায় জমির পাকা ধান ঘরে তুলতে না পেরে বিপাকে পরেছেন চাষিরা। ঘূর্ণিঝড় ‘আশানি’র প্রভাবে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারি বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটে পাকা ধান কাটতে না পারা ও রোদের অভাবে কাটা ধান শুকাতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তা আর উৎকণ্ঠায় দিন যাপন করছেন কৃষকেরা। ধানের স্থানীয় বাজার মূল্যও আগের চেয়ে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় চাষিদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। 

ঈদের আগে কিছু ধানকাটা শুরু হলেও বর্তমানে পাকা ধান কাটার ভরা মৌসুম। ঈদের দিন থেকে কাল বৈশাখী ঝড়ের সাথে শুরু হওয়া বৃষ্টি ও বর্তমানে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘আশানি’র প্রভাবে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারি বৃষ্টির কারণে কৃষকের ক্ষেতে হাঁটু পানি জমে গেছে। অন্যদিকে জমিতে রাখা কাটা ধান কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ভিজে অঙ্কুরোদগম হয়ে যাচ্ছে। এতে ওই ফসলের ৫০ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে। অনেক জমির ধান কাল বৈশাখীতে নুয়ে পরার কারণে ধানের শস্য নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষকেরা জানান, বর্তমান বছরে শুরু থেকে আবহাওয়ার আনুকূল্য, পর্যাপ্ত পানি, সার, ঔষধ ঠিক সময়ে পাওয়ায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে ভালো ফলনের পরেও গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, শরণখোলা, মোড়লগঞ্জ, পিরোজপুর জেলা-উপজেলার ধানকাটা শ্রমিকেরা গত বছরের তুলনায় এলাকায় অনেক কম এসেছে। ঈদের পরে ধান কাটার ভরা মৌসুমের এই সময়ে তাদের এলাকায় আসার কথা থাকলেও ঘূর্ণিঝড় আশানির প্রভাবে থেমে থেমে বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটের কারণে ঘূর্ণিঝড় আশানির আগে ধান কাটতে পারছেন না কৃষকেরা। অনেকে দৈনিক হাজিরার শ্রমিক নিয়েও পাকা ধান কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। শ্রমিক স্বল্পতার মধ্যে কিছু পাকা ধান কাটা হলেও বৃষ্টির কারণে ধানের খর-কুটা পচে যাওয়ায় গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দেবে বলেও জানান চাষিরা।

এদিকে এত কষ্টের পরেও চাষিদের ফলানো ধান স্থানীয় বাজারে আগের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে ধানের স্থানীয় বাজার মূল্য সর্বোচ্চ ৭শ টাকা দর দেখা গেছে বিভিন্ন হাট বাজারে। সরকারীভাবে ধান ক্রয় করা শুরু হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভাল করে ধান শুকাতে না পারায় অনেক চাষিরাই ইচ্ছা থাকলেও সরকারী গুদামে তাদের ধান দিতে পারছেন না।

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র মন্ডল জানান, বুধবার পর্যন্ত উপজেলার ৪৫ভাগ ধান কাটা হলেও বাকী ৫৫ ভাগ পাকা ধান কাটা নিয়ে চাষিদের বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন- মাঠ পর্যায়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। দু’এক দিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত চাষির তালিকা প্রণয়ন ও চূড়ান্ত ক্ষয় ক্ষতির তালিকা করতে পারবেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ দোলন চন্দ্র রায় জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৯হাজার ৪শ ৫হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা হয়। জমি চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬৫হাজার মেট্রিক টন ধান। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে ও শ্রমিক সংকটের কথাও জানান তিনি।

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

জায়গা স্বল্পতা: নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থানান্তর হবে ট্রাক টার্মিনালে

দলীয় কর্মসূচি থে‌কে ফেরার পথে ট্রাক চাপায় বিএন‌পি নেতার মৃত্যু

উজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পল্লি চিকিৎসকের মৃত্যু

বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যাত্রীবাহী নৌযান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বরিশালে পুরনো সরঞ্জামের কারণে যখন-তখন বিদ্যুৎ বিভ্রাট

বরিশালে ভূমি সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন

আগৈলঝাড়ায় দেশি লিচুর কদর বেড়েছে

বরিশালে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার