স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০৪

ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার চাঁদাবাজি এবং আড়তদারের ওপর হামলার প্রতিবাদে বরিশালের বৃহত্তর পাইকারী কাঁচা বাজারের পাইকাররা ধর্মঘট পালন করেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর ভাটারখাল এলাকায় বহুমুখী সিটি পাইকারী কাঁচা বাজারে এই কর্মসূচি পালন করে ব্যবসায়ীরা।

হামলার শিকার বহুমুখী সিটি পাইকারী কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী মো. শাহ আলম মিয়া জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় আড়তদার এবং কর্মচারীদের ওপর হামলা করে বহিরাগতরা। 

তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, কাঁচা বাজারের সামনের রাস্তা দখল করে ব্যবসা করা ফড়িয়াদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলেন স্থানীয় ভাটারখাল এলাকার বাসিন্দা মামুন ও তার ছেলে মুন্না। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। রোববার সকালে কাঁচা বাজারের ফড়িয়াদের রাস্তা ছেড়ে দিতে বললে ক্ষুব্ধ হন মামুন ও মুন্না। সকাল ১১টার দিকে তারা বহিরাগত নিয়ে এসে বাজারের সবচেয়ে পুরোনো ব্যবসায়ী শাহ আলম বাণিজ্যালয়ের মালিক শাহ আলম মিয়ার ওপর হামলা ও মারধর করা হয়।

প্রতিবাদে দুপুরের দিকে কাঁচাবাজারের আড়তদাররা তাদের ব্যবসায়ীক কার্যক্রম বন্ধ করে বাজারে বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতিবাদ সভা করেন। এসময় তারা ব্যবসায়ীদের ওপর হামলাকারীদের বিচারসহ বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানান। নতুবা ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কাঁচাবাজারে লাগাতার ধর্মঘটের আল্টিমেটাম দেন ব্যবসায়ীরা। সেই আল্টিমেটাম অনুযায়ী আজ ধর্মঘট পালন করছে ব্যবসায়ীরা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবয়ক মামুন বেপারী বলেন, ‘আমি চাঁদাবাজি করি এমন অভিযোগ কোনো আড়তদার বলতে পারবে না। আর আড়তদার শাহ আলমকে আমি বা আমার কোনো লোক মারেনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের আগে এখানে ব্যাপক চাঁদাবাজি হতো। আমি সেটা বন্ধ করেছি। সম্প্রতি সাব্বির নামের এক ফড়িয়াকে মারধর করা হয়। এ কারণে তার অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। আমি তাকে ছাড়িয়ে এনেছি এটাই আমার অপরাধ।

বরিশাল মহানগরীর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি আল মামুন ইসলাম জানান, ব্যবসায়ীর দায়ের করা মামলার এজাহার নামীয় আসামী বাবুল আকনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া বাকী ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতার কথা বলেছে, সে বিষয়টি আমরা দেখছি, ইতিমধ্যে বাজার এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভয়ের কোন কারণ নেই আমরা ওনাদের পাশে আছি।

এদিকে সোমবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সেখানে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা বাজার সংলগ্ন ভাটারখাল বস্তিতে মাদক বিক্রির মদদদাতাও এই হামলাকারীরা। এই বাজারে ৮০ জন আড়তদার ও ৫০০ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে। তাদের নিরাপত্তা না দেওয়া হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এই কাঁচাবাজার বন্ধ ঘোষণা করা হবে।

ইত্তেফাক/এমএসআর