শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটকে শক্তিশালী করা হচ্ছে: এনামুল হক শামীম

আপডেট : ১২ মে ২০২২, ১৯:৩৬

পানি সম্পদ উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম বলেছেন, সারাদেশের নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কাজ করছে সরকার। এজন্য নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। যাতে দেশের নদ-নদী নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়। দেশের ২২টি জেলায় ভাঙনের ঝুঁকিপূর্ণ ৫৪টি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় যেহেতু স্থায়ী প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ অনেকাংশে জলাবদ্ধতার হাত থেকে, নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে। যার সুফল কয়েক বছরের মধ্যে মিলবে।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) বিকেলে ফরিদপুর নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভৌগোলিকভাবে ভাটির দেশ বাংলাদেশে বন্যা ও নদী ভাঙনের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই বন্যা অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করে না। এটা ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, নেপাল ও চীনের অঞ্চলগুলোর ওপর নির্ভর করে। তাই সারাদেশে তীব্র নদী ভাঙন কবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কারণেই গত ১৩ বছরে সারাদেশে নদীভাঙনের পরিমাণ সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর থেকে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টরে চলে আসছে। হাওড় অঞ্চলেও ভাঙন রোধে কাজ করা হয়েছে। একারণে সেখানকার কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পেরেছে। দুর্নীতি যাতে না হয় এবং কাজের ক্ষেত্রে যাতে গুণগত মান বজায় থাকে, সেজন্য নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। কাজের ব্যাপারে কোন প্রকার গাফিলতি, অনিয়ম ও দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।

এছাড়াও উপমন্ত্রী সারাদেশের নদী ভাঙন প্রবণ এলাকার কাজের উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রকল্প করা হচ্ছে। উপকূল অঞ্চলে প্রতিটি বাঁধ প্রশস্ত ও উঁচু করা হচ্ছে,  বনায়ন করা হচ্ছে এবং যেসব স্থায়ী প্রকল্প নিচ্ছেন, তাতে নদী খনন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জনবলও বাড়ানো হয়েছে।

এনামুল হক শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী প্রজন্ম নিয়ে ভাবেন, সেজন্য তিনি আগামীর বাসযোগ্য বিশ্বমানের সুবিধা সম্বলিত বাংলাদেশ গড়তে চান। এজন্য তিনি দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। সেজন্য তিনি ডেল্টাপ্লান-২১০০ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। আর এই মহাপরিকল্পনার সিংহভাগ কাজই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবেন। এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সারাদেশে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার কোনো সমস্যাই থাকবে না। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

এ সময় নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক আলিমউদ্দিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হেকিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম, ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা, শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীবসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/ইউবি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

নারী শ্রমিককে ধর্ষণের অভিযোগ, অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

ফরিদপুরে দুই সপ্তাহ পর উদ্ধার হলো শিক্ষকের ১০ লাখ টাকা

ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে ঢুকে শিশু সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা

আড়িয়াল খাঁ নদে ডুবে যাওয়া যুবকের লাশ উদ্ধার

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বোয়ালমারীতে বস্তাবন্দী নারীর লাশ উদ্ধার

ফরিদপুরে সাড়ে ৪ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ

ফরিদপুরে তিনশ লিটার সয়াবিন জব্দ, ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

ভাঙ্গায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত