উত্তর কোরিয়ায় কঠোর লকডাউন ঘোষণা

আপডেট : ১৩ মে ২০২২, ০৩:০৮

উত্তর কোরিয়ায় প্রথমবারের মতো মানবদেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় দেশজুড়ে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, রাজধানী পিয়ংইয়ং-এ করোনা ভাইরাসের অমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়েছে। তবে কতজন আক্রান্ত হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

গত বছর বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ উত্তর কোরিয়াকে করোনা টিকা সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। তবে ওই সময় সবগুলো প্রস্তাবই ফিরিয়ে দেয় দেশটি। পরবর্তী সময়ে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে সংক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করে তারা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটিতে অনেক আগে থেকেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রয়েছে। আর টিকা কর্মসূচি গ্রহণ না করায় দেশটির আড়াই কোটি মানুষ বেশ ঝুঁকিতে আছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নির্মূলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন বদ্ধ পরিকর। তিনি বিষয়টিকে 'রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের নতুন বিধি-নিষেধ আরোপ করার জন্য যে বৈঠক ডাকা হয়েছে সেখানে কিম জং-আনকে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। এই প্রথমবারের মতো তাকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মাস্ক পরা অবস্থায় দেখা গেল। তবে বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিরা যখন তাদের মাস্ক লাগান তখন মি. কিম তার মাস্কটি খুলে ফেলেন।

এদিকে দেশটির সংবাদমাধ্যম বলছে, চারদিন আগে দেশটিতে অমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হবার প্রথম খবর পাওয়া যায়। এর ফলে দেশটিতে এখন স্থানীয় ভিত্তিতে কঠোর লকডাউন এবং কর্মক্ষেত্রে যাবার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

করোনা মোকাবিলায় গত কয়েকমাস ধরে বিভিন্ন স্থানে জীবানুনাশক স্প্রে করছে দেশটির স্বাস্থ্যকর্মীরা। এর আগে সংক্রমণ ঠেকাতে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে উত্তর কোরিয়া সর্বপ্রথম তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিল। এসময় বিদেশ থেকে খাদ্য সামগ্রীও প্রবেশ বন্ধ করে ছিল। ফলে দেশটি খাদ্য ঘাটতিতে পড়ে এবং অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি