শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

শ্রীলঙ্কায় ঐক্যের সরকার গড়া নিয়ে টানাপড়েন

আপডেট : ১৪ মে ২০২২, ০২:৩০

শ্রীলঙ্কায় নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে দায়িত্ব নিলেও জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করা নিয়ে টানাপড়েন চলছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হয়েছে, বিরোধীদলের এক সিনিয়র নেতা নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। দ্রুত নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রনিল বিক্রমাসিংহে বৃহস্পতিবার শপথ গ্রহণ করেন। তিনি শ্রীলঙ্কায় চলমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যদিও তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি ভালো হওয়ার আগে আরো খারাপ হতে পারে।

শ্রীলঙ্কা স্বাধীন হওয়ার পর সবচেয়ে বাজে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে রয়েছে। খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে গত প্রায় দুই মাস ধরে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভের মুখে টালমাটাল দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। প্রবল বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন মাহিন্দা রাজপাকসে। এখনো প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের অনেকের মতে, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে রাজাপাকসে পরিবার ও তাদের সরকার দায়ী।

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে দাবি করেছেন, সরকার পরিচালনার জন্য তার পর্যাপ্ত সমর্থন রয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের জন্য কয়েকটি বিরোধী দলের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু প্রথম সারির বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতা হার্শা ডি সিলভা প্রকাশ্যে অর্থমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব নাকচ করেছেন। তিনি বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

 এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জনগণ রাজনৈতিক খেলা বা চুক্তি চাইছে না। তারা নতুন সিস্টেম চাইছে যা তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে। তিনি প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে উত্খাতে জনগণের লড়াইয়ে যোগ দেবেন বলে জানান। ডি সিলভা হলেন—সামাগি জনা বালাওয়েগায়া (এসজেবি) পার্টির একজন আইনপ্রণেতা। জাতীয় ঐক্যের সরকারে সমর্থন দেওয়া নিয়ে দলটিতে বিভক্তির তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে বর্তমান সংকট উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরা এমন একটি অবস্থায় ফিরতে চাই—যেখানে দেশের মানুষ দিনে তিনবেলা খেতে পারবে। এদিকে গতকাল শ্রীলঙ্কায় ভারতের হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বিক্রমাসিংহে। বৈঠকের পর ভারতীয় হাইকমিশনার এক টুইট বার্তায় বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে তারা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। কলম্বোতে এখনো শতশত বিক্ষোভকারী অবস্থান নিয়ে আছে। গোটাবায়া রাজাপাকসে পদত্যাগ না করলে নতুন সরকারের গঠন জনগণকে কতটা শান্ত করতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে নতুন সরকার নিয়োগ দেওয়া না হলে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ধসে পড়বে।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ইমরানের ‘আজাদি মার্চ’ জনসমুদ্র

দ. কোরিয়ায় নতুন করে প্রায় ৯ হাজার করোনায় আক্রান্ত

ইমরানের আজাদি মার্চ, ইসলামাবাদে সেনা মোতায়েন

তুরস্ককে সামলানো ন্যাটোর জন্য এখন কঠিন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

খাদ্য সংকট এড়াতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া জরুরি: মস্কো

সেনেগালে হাসপাতালে আগুন, ১১ নবজাতকের প্রাণহানি

বিশ্বব্যাপী মাঙ্কিপক্স আক্রান্তের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে

শ্রীলঙ্কায় ব্যক্তিগত গাড়িতে তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ