শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশি প্রভাব ক্ষমতা পরিবর্তনের মতো নয়: শফি সামি

আপডেট : ১৫ মে ২০২২, ০০:৩০

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সি এম শফি সামি বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশি প্রভাব থাকলেও তা কাউকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা বা ক্ষমতাচ্যুত করার মত নয়। আরো বলেন, বাংলাদেশের অবস্থা এখনও শ্রীলঙ্কার মতো হয়নি। তবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বর্তমান অবস্থা থেকে বাংলাদেশের অনেক শিক্ষণীয় রয়েছে। তাই বাংলাদেশে দ্বন্দ্ব-সংঘাতমূলক পরিস্থিতি পরিহার করে রাজনৈতিক সমঝোতায় আসা জরুরি। 

শনিবার (১৪ মে) এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত পাকিস্তানের ইমরান খানের সরকার পতনের কারণ নিয়ে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সি এম শফি সামি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

শফি সামি বলেন, ‘পাকিস্তানে ইমরান খান সরকারের পতনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত থাকলেও সেনাবাহিনীর সাথে ইমরান সরকারের বিরোধ, শাসন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নিজ জোটের অনৈক্যই অনেকাংশে দায়ী। তবে প্রথমবারের মতো সংসদে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে পাকিস্তানে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট শক্ত সাংবিধানিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, নবগঠিত শাহবাজ সরকারের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। পিএমএলএন ও পিপিপি এই দুটি প্রভাবশালী জোটের বর্তমান ঐক্য কতদিন থাকবে তা দেখার বিষয়। বর্তমান সরকারের দেশ পরিচালনার সক্ষমতা ও জোটবদ্ধতার স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করছে ইমরান খানের ভবিষ্যৎ রাজনীতির সাফল্য।’

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘পাকিস্তানের জনগণের জন্য সবচেয়ে বড় লজ্জার বিষয় হচ্ছে, তাদের সরকারগুলোর গ্রহণযোগ্যতা জনগণের কাছে যত ভালোই হোক না কেন, সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সমর্থন ছাড়া তারা ক্ষমতায় থাকতে পারে না। পাকিস্তানের ৭৫ বছরের ইতিহাসে ২৫ বছরই সামরিক বাহিনীর শাসন ছিল। বাকি ৫০ বছর বেসামরিক সরকারে নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছে সামরিক বাহিনী।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘অদৃশ্য ক্র্যাচের উপর নির্ভর করে পাকিস্তানের সরকার পরিচালিত হচ্ছে। যখনই এই ক্র্যাচটি সরিয়ে নেওয়া হয় তখনই পাকিস্তানের গণতন্ত্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। কিরণ আরো বলেন, আইএসআইয়ের প্রধান পদে সেনাপ্রধানের পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ না দেওয়ায় সেনাবাহিনীর সাথে ইমরান সরকারের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। যা বিরোধীরা ইমরানকে অপসারণে কাজে লাগায়। তবে ইমরান নিজেই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য মার্কিন ষড়যন্ত্রকে দায়ী করেন। প্রমাণ হিসেবে তিনি ইসলামাবাদে এক জনসভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তাকে দেওয়া কূটনৈতিক সতর্কবার্তার একটি চিঠিও প্রদর্শন করেন।’

ইউসিবি পাবলিক পাবলিক শিরোনামে এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর বিতর্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক ড. শাকিলা জেসমিন ও সাংবাদিক আঙ্গুর নাহার মন্টি। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

ইত্তেফাক/এসজেড