সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দেশে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে মাথপিছু ব্যয় ৭০০ টাকা

আপডেট : ১৬ মে ২০২২, ০২:৩৭

দেশে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে যে ব্যয় করা হচ্ছে সেটি মোট দেশজ উৎপাদের (জিডিপি) শতকরা হিসেবে মাত্র শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশের সমান। গবেষণা ও উন্নয়নে মাথাপিছু ব্যয় হচ্ছে মাত্র ৭০০ দশমিক ৩৪ টাকা (৮.৩৩ ডলার)। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য নিয়ে করা এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মোট ছয়টি বিষয়ের ওপর এক সমীক্ষা প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ করেছে। তার মধ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) খাতে ব্যয়ের এই চিত্র উঠে এসেছে। মূলত করোনা পূর্ববর্তী সময়ে ২০১৯ সালের তথ্য এই সমীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গবেষণা ও উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ এটি দেশের উদ্ভাবন কর্মক্ষমতার একটি অনন্য পরিমাপক। উদ্ভাবন এখন সর্বজনীনভাবে উন্নয়নশীল এবং উন্নত উভয় দেশের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি ইঞ্জিন হিসেবে বিবেচিত। একইভাবে দারিদ্র্যবিমোচনের একটি গুরুত্ব চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। কার্যকর উদ্ভাবনী নীতিনির্ধারণে বেঞ্চমার্ক হিসেবে নির্ভরযোগ্য সূচক প্রয়োজন। গবেষণা ও পরীক্ষামূলক উদ্ভাবন একটি দেশের জাতীয় উদ্ভাবন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদন। তাছাড়া গবেষণা ও উন্নয়ন অর্থনৈতিক ইউনিটের উৎপাদনশীলতার হার বাড়ানোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বিবিএস জরিপ সংশ্লিষ্টরা জানান, সর্বাধিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশে আরঅ্যান্ডডি ব্যয়ের পরিমাণ নির্ণয় করার কোনো প্রচেষ্টা এর আগে নেওয়া হয়নি। ফলস্বরূপ আরঅ্যান্ডডির ব্যয়ের কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বিস্তৃত তথ্য ও পরিসংখ্যান একটি পূর্বশর্ত এবং গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় সেগুলোর মধ্যে একটি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজনে বিবিএস ২০১৯ সালের গবেষণা এবং উন্নয়ন ব্যয় পরিমাপের জন্য এই সমীক্ষাটি করেছে।

বিবিএস উল্লেখ করেছে, এটি ছিল আমাদের দেশে এই ধরনের প্রথম সমীক্ষা, এতে সকল প্রকার অর্থনৈতক খাতে অর্থাত্ উচ্চশিক্ষা, সরকার, ব্যবসা এবং বেসরকারি অলাভজনক খাত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে ব্যয়: সমীক্ষায় দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই খাতে কাঙ্ক্ষিত ব্যয় করতে পারছে না। সমীক্ষার জন্য উচ্চশিক্ষা খাতের সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় যেমন—সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে দেশে ১৫১টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এর মধ্যে ৪৬টি সরকারি এবং ১০৫টি বেসরকারি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) তথ্যে দেখা যায়, মোট ৪৬টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আটটি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উন্নয়নে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। একই সময়ে মোট ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উন্নয়নে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। বেসরকারি ও সরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্কলিত মোট গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় ছিল ১ হাজার ৩৭১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩৫৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১ হাজার ১৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রতিটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গড়ে ১১ কোটি ৩৮ টাকা ব্যয় করেছে। আরঅ্যান্ডডি ব্যয়ের মধ্যে স্থায়ী সম্পদ যেমন জমি, ভবনসহ যন্ত্র ও সরঞ্জাম এবং কম্পিউটার সফটওয়্যারের মতো মূলধন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে বেশি। যদি আরঅ্যান্ডডির জন্য মূলধন ব্যয় বাদ দেওয়া হয়, তাহলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্কলিত গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় (চলতি ব্যয়) দাঁড়ায় মাত্র ৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই খাতে যে ব্যয় হচ্ছে জিডিপির শতকরা হিসেবে তার পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশের সমান।

সরকারি খাত: সরকারি খাতে ২০১৯ সালে মোট গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সরকারি খাতে মোট গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে পাবলিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় ১ হাজার ৫৬০ কোট ৩৫ লাখ টাকা (৪০ শতাংশ) এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তরের অধীনে গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় ২ হাজার ৩৪০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা (৬০ শতাংশ)। জিডিপির শতকরা হিসাবে সরকারি খাতে গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ।

বেসরকারি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান :দেশে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম করছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুব বেশি নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উল্লেখিত বছরে মোট ৭৬০ কোটি টাকা এই খাতে ব্যয় করেছে। জিডিপির হিসাবে এই ব্যয় মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান: আমাদের দেশে স্বল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠান গবেষণা ও উন্নয়ন কাজে অর্থ ব্যয় করে থাকে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান অনিয়মিত ভাবে এই ব্যয় করছে। মূলত কিছু ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি, সফটওয়্যার কোম্পানি, খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, তামাকজাতদ্রব্য প্রস্তুতকারক ছাড়াও বস্ত্র, চামড়া, রাসায়নিক, রাবার ও প্লাস্টিক, মৌলিক ধাতু প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান গবেষণা ও উন্নয়ন কাজে অর্থ ব্যয় করে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৫৬৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা। জিডিপির হিসাবে এর অংশ মাত্র শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ।

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ছে 

অর্থবছরের ১১ মাসে ২৬ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণ

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিইও হতে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা লাগবে

সুইস অথরিটির কাছে তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

এক সয়াবিন তেলে দাম বাড়লো যত পণ্যের

বাংলাদেশের সঙ্গে এডিবির ১৪৩ মিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি 

পুঁজিবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব বিবেচনা করা যায়

বিশেষ সংবাদ

উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম কম, তবু ক্রেতা নেই