বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

শেরপুরে পানিতে লুটোপুটি খাচ্ছে কৃষকের কষ্টের ধান

আপডেট : ১৬ মে ২০২২, ১২:৪৩

শ্রমিকসংকট ও ঝোড়ো হাওয়ায় জমির নুয়ে পড়া পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শেরপুর উপজেলার কৃষকরা। তার ওপর বাজারে ধানের দাম না থাকায় উত্পাদন খরচও উঠছে না। 

শেরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আসানির প্রভাবে হওয়া ঝড়-বৃষ্টিতে এই উপজেলার ২ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানিতে লুটোপুটি খাচ্ছে এসব জমির পাকা ধান। সেই সঙ্গে ধান কাটা শ্রমিকসংকটে পানিতে ডুবে থাকা ধানের শিষ খেতেই পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যা দেখে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জমির আইলে বসে চোখের পানি ফেলছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বললে তাদের এমন করুণ চিত্র উঠে আসে। তাদের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে ধান লাগানো থেকে শুরু করে কাটা-মাড়াই ও জমির মালিককে বর্গাবাবদ টাকা দেওয়া পর্যন্ত ২২ হাজার ২০০ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। আর বর্গা বাবদ সাত হাজার টাকা বাদ দিয়ে হিসেব কষলে প্রতিবিঘা জমির বিপরীতে একেক জন কৃষকের খরচের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫ হাজার ২০০ টাকা। অথচ সেই জমি থেকে সর্বোচ্চ ১৬-১৮ মণ হারে ধানের ফলন মিলছে। বাজারদর অনুযায়ী প্রতিমণ শোভললতা জাতের ধান (কাঁচাভেজা) গড়ে ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। সেই হিসাবে প্রতিবিঘা জমি থেকে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকার ধান বিক্রি করতে পারছেন। অর্থাৎ দেখেশুনে প্রতিবিঘায় প্রত্যেক কৃষককে বর্গাবাবদ ব্যয়সহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ২০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়। শুরু থেকে আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূলে থাকলেও ফসল ঘরে তোলার সময় আবহাওয়া অনুকূলে নেই। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। বিশেষ করে আসানির প্রভাবে এই উপজেলার ওপর দিয়ে ঝড়-বৃষ্টি বয়ে গেছে। এতে করে ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে সূত্রটি জানায়। তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উলটো। আসানির ঐ ঝড়-বৃষ্টিতে উপজেলার সিংহভাগ জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এমনকি খেতে জমে থাকা সেই পানিতে ধানের শিষ ডুবে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকসংকটে জমির পাকা ধান কাটাও যাচ্ছে না।

উপজেলার উচরং গ্রামের কৃষক আব্দুল বারিক জানান, তিনি চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধান লাগিয়েছেন। এসব জমির ধান পেকেও গেছে। কিন্তু অব্যাহত বৃষ্টি ও ঝড়ে ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে খেতের মধ্যে জমে থাকা পানিতে ভাসছে ধান। এমন অবস্থায় শ্রমিকরাও ধান কাটতে রাজি হচ্ছেন না। দ্বিগুণ দাম দিয়ে ১০ বিঘা জমির ধান কাটতে পারলেও বাকি জমির ধান পানির মধ্যেই ভাসছে। ধান দ্রুত কাটতে না পারলে জমিতেই পচে নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে খেতের কেটে আনা কাঁচাভেজা ধান কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রিও করতে পারছেন না। প্রতিমণ ধান ৫৯০-৭০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এতে করে তাকে বিপুল অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সাধুবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘নিচু এলাকায় লাগানো প্রায় ১০ বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে রয়েছে। শ্রমিকরা কাটতেই চাচ্ছে না। এছাড়া কাটার জন্য যে মজুরি দাবি করছে, তা জমির উত্পাদিত সব বিক্রি করেও হবে না। তাই ঐ সব জমির ধান কাটার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়েছি।’

এসব বিষয়ে শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বৈরি আবহাওয়ার কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ায় যেসব জমির ধান আশি ভাগ পেকে গেছে, তা দ্রুত কেটে ঘরে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকরা ধান কাটছেন। ইতিমধ্যে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ জমির ধান কেটে ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন তারা। তাই চিন্তার তেমন কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সারিয়াকান্দিতে সেতু বিধ্বস্ত, ভোগান্তিতে ২৫ গ্রামের মানুষ

জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকটে চালু হচ্ছে না বার্ন ইউনিট

সারিয়াকান্দিতে যমুনার চরে মানুষের দুর্ভোগ চরমে

সারিয়াকান্দি থানার ওসিসহ ৪ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বগুড়ায় চলন্ত বাসে এসি বিস্ফোরণে আগুন, প্রাণে রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

ছাত্র ধর্ষণ, মাদরাসাশিক্ষক গ্রেফতার

ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত

সারিয়াকান্দিতে কৃষিজমিতে নদী খননের বালু ফেলার অভিযোগ