বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ইপিজেডের পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে ডিসি অফিস ঘেরাও সাঁওতালদের

আপডেট : ১৮ মে ২০২২, ১৮:৩২

রক্তে ভেজা তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল ও আদিবাসীদের আদিবাসী হিসাবে সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ ১৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ এবং গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও করে সাঁওতালরা। বুধবার (১৮ মে) দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে তারা জেলা প্রশাসক মো. অলিউর রহমানের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সড়কে অবস্থিত এলজিইডি কার্যালয়ের সামনে থেকে সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী তির-ধনুক, ফেস্টুন ও ব্যানার হাতে তিন শতাধিক সাঁওতাল নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করে। এসময় কার্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় পুলিশ। পরে প্রধান ফটকের সামনে তারা অবস্থান আড়াইঘন্টা ব্যাপী সমাবেশ করে।

কর্মসূচির আয়োজন করে গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি। 

গাইবান্ধা আদিবাসী-বাঙালী পরিষদের আহ্বায়ক আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড নির্মাণের নামে বাপ-দাদার সম্পত্তি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের পায়তারা করা হচ্ছে। 

জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় নেতা মারিও সুইটেন মুমু বলেন, সাঁওতালদের রক্তেভেজা জমি ছেড়ে দেওয়া হবে না। তিন সাঁওতাল হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, সাঁওতাল-বাঙালীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও বাপ-দাদার জমি ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। আজও বিচার কার্য শুরু হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে সাঁওতালদের পুনর্বাসন সহ নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। 

১৬ দফার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হচ্ছে, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন, দখলি শর্তে খাস জমি, বসতভিটা, কবরস্থান, পুকুর আদিবাসীদের নামে প্রদান, প্রাকৃতিক বনে আদিবাসীদের প্রথাগত অধিকার নিশ্চিত করা, আদিবাসীদের নামে মিথ্যা বন মামলা ও হয়রানি বন্ধ, আদিবাসীদের ক্ষমতায়নের জন্য জাতীয় সংসদে আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত ও সংরক্ষিত আদিবাসী নারী আসনের ব্যবস্থা করা, আদিবাসীদের মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ চিরতরে বন্ধে আইন প্রণয়ন। 

সাঁওতাল ও বাঙালিদের ১ হাজার ৮৪০ দশমিক ৩০ একর জমি ১৯৬২ সালে অধিগ্রহণ করে গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জস্থ রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার গড়ে তোলে। চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ এনে গত ২০১৬ সালের ১ জুলাই ওই খামারের কিছু এলাকায় সাঁওতালরা বসতি স্থাপন করে। একই বছরের ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ  এসব জমিতে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে গেলে সাঁওতালদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তিন সাঁওতাল মারা যান। 

এইসব ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষ থেকে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল আহম্মেদসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ এবং ৬০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে মামলা করে। এ পরিস্থিতিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় সাঁওতালরা এখানে ইপিজেড না করার জন্য আন্দোলন শুরু করেন। 

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

অধ্যক্ষকে লাঞ্ছনা: গ্রেফতার ৪ তরুণ রিমান্ড শেষে কারাগারে

ঈদ উপহার নিয়ে এতিম শিশুদের পাশে মুক্তির বন্ধন ফাউন্ডেশন 

সাঘাটায় হাতপাখাই এখন ভরসা

সামনে ঈদ, সিলেট-সুনামগঞ্জের অর্ধকোটি মানুষ অসহায়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বাঘায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন অতিষ্ঠ 

পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপারের সময় ৩ ট্রাকচালক আটক

নববধূ সেজে ইয়াবা পাচার!  

পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না প্রিয়ন্তির