সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী নৌবন্দরটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রতিষ্ঠার ৩৯ বছর পরও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এ বন্দরে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এখানে কার্গো জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের পর্যাপ্ত জেটি, গুদাম ও সেট নেই।
এছাড়া এখানে নেই ট্রাকস্ট্যান্ড, উন্নত রাস্তাঘাট, শ্রমিকদের বিশ্রামাগার এবং খাবার ক্যান্টিন। ফলে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে তা বছরের পর বছর খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত জেটি না থাকায় পণ্য খালাসে বিলম্ব হয়। ফলে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ট্রাকস্ট্যান্ড না থাকায় যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকায় বন্দরে প্রায়ই ট্রাক জটের সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের লেবার এজেন্ট আবুল হোসেন বলেন, ১৯৮৩ সালে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর দীর্ঘ ৩৯ বছর পার হলেও বন্দরটি আজো প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়নি। দ্বিতীয় শ্রেণির এ বন্দর চ্যানেলটিতে পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ চলাচলে সাড়ে ৭ ফুট পানির ড্রাফট প্রয়োজন হয়। কিন্তু নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে ৬ থেকে ৭ ফুটের বেশি পানির ড্রাফট থাকে না। ফলে সে সময়ে ৬/৭ হাজার মেট্রিক টনের বেশি পণ্যবাহী জাহাজ এ বন্দরে আসতে পারে না। বন্দরটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হলে এ বন্দর চ্যানেলে ১২ থেকে ১৪ ফুট পানির ড্রাফট থাকবে। তখন খুব সহজে এ চ্যানেলে ১২ থেকে ১৪ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কার্গো জাহাজ অনায়াসে যাতায়াত করতে পারবে। এতে উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলায় জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সার, কয়লা, পাথর, রড, সিমেন্ট, ধান, চাল ও অন্যান্য মালামাল পরিবহন খরচ অর্ধেক কমে যাবে।
বাংলাদেশ নৌযান ফেডারেশন, বাঘাবাড়ী নৌবন্দর শাখার পরিচালক আব্দুল ওয়াহাব মিয়া বলেন, এ বন্দরটি প্রথম শ্রেণির না হওয়ায় এখানে বড় জাহাজ আসতে পারে না। অন্যদিকে এখানে জাহাজ শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত কোনো সুবিধা না থাকায় শ্রমিকরা এ বন্দরে আসতে চায় না। বাঘাবাড়ী নৌবন্দর লেবার সাগর আলী, সোবাহান আলী, মজনু মিয়া, নজরুল ইসলাম ও সেলিম হোসেন বলেন, বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে লেবারদের জন্য বিশ্রামাগার ও ক্যান্টিন না থাকায় আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক ও বাঘাবাড়ী নৌবন্দর কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, এ বন্দরটির উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি একনেকে পাশ হলে অচিরেই এর কাজ শুরু হবে। তখন আর এ সমস্যাগুলো থাকবে না। তিনি বন্দরটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীতকরণের ব্যাপারে বলেন, এটা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হোক তা আমরাও চাই। এটি হলে এখানে পণ্য খালাস ও সংরক্ষণের সুব্যবস্থা হবে। বহু লোকের কর্মসংস্থান ও উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলায় পণ্য সরবরাহ আরো সহজ হবে।
