মোংলায় কিশোরকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন

আপডেট : ১৯ মে ২০২২, ১১:৩৮

মোংলায় গাছের পাতা পাড়ায় ১৬ বছরের এক কিশোরকে হাত-পা বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বিভাগের হাবিলদার মো. বেল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের হাবিলদার মো. বেল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে কিশোর নির্যাতনের একটি অভিযোগ পেয়েছি, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নির্যাতনের শিকার কিশোর বাবু অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এরপর তাকে উদ্ধার করে ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি করা হয়। সেখানে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তার জ্ঞান ফিরলেও সন্ধ্যার পর আবারও অজ্ঞান হয়ে পড়লে রাত ৯টার দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় ওই কিশোরের বাবা ঠেলাগাড়ি চালক মন্টু সরদার রাতে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

নির্যাতনের শিকার কিশোরের বাবা মন্টু সরদার ও স্থানীয়রা জানান, কিশোর বাবু বুধবার মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পুরাতন বন্দর এলাকার আবাসিকের মধ্যে মেহগনি গাছের পাতা পাড়তে যায়। গাছ থেকে পাতা পাড়ার এক পর্যায়ে নিরাপত্তা বিভাগের হাবিলদার মো. বেল্লাল হোসেন কিশোরটিকে গাছ থেকে নামিয়ে মারপিট করেন। হাত-পা বেঁধে চালানো নির্যাতনে কিশোর বাবু সেখানে অচেতন হয়ে পড়ে। এসময় অভিযুক্ত বেল্লাল কিশোরের হাত পায়ের দড়ি খুলে দিয়ে সরে পড়েন। পরে খবর পেয়ে তার পরিবার তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘কিশোর বাবুর শরীরে অসংখ্য লাঠিপেটার আঘাত রয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় পুরোপুরি অজ্ঞান হয়ে পড়ে কিশোর বাবু। এরপর তার শারীরিক অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়ায় রাত ৯টার দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

নির্যাতনের শিকার কিশোর বাবু ভাড়ায় ভ্যান চালান। আর বাবা মন্টুও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে সংসার চালান।

এবিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বিভাগের হাবিলদার মো. বেল্লাল হোসেন নির্যাতনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘নিউজ করবেন কেন? রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বসে বৃহস্পতিবার এর মিটমাট করে দেবেন।’

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী বলেন, ‘এ ঘটনায় নিরাপত্তা বিভাগের হাবিলদার মো. বেল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

ইত্তেফাক/এমআর