জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগনে, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত, জাতীয় সংসদের সাবেক সংসদ সদস্য ও গণপরিষদের প্রাক্তন সদস্য মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদাভাই)-এর ৩১ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাদারীপুরের শিবচরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সকালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন তার বড় ছেলে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের ৬ বারের সফল সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন, তার কনিষ্ঠ ছেলে ফরিদপুর-৪ আসনের সফল সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনসহ পরিবারের সদস্যরা।
এ সময় মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান, মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, মাদারীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মুনির চৌধুরীসহ জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ও দোয়ায় অংশ নেন।
এর আগে সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দিনটি উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে দত্তপাড়ায় তার নিজ বাড়িতে পারিবারিক জামে মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদাভাই) ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনসহ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পদ্মা পাড়ের এক সময়ের পিছিয়ে পড়া জনপদ শিবচরের নারী শিক্ষার অগ্রদূত তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শিবচরের গুয়াতলা গ্রামে দাদাভাইয়ের একক প্রচেষ্টায় ১৯৭৪ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা করেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়া তিনি অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা। ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী দাদাভাই জনপ্রিয় দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন। তিনি আরামবাগ ক্রীড়াচক্রের সভাপতি ও খুলনা আবাহনী ক্রীড়াচক্রের সভাপতি ছিলেন। তিনি ছিলেন সফল ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক এবং খুলনা অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি তৎকালীন জাতীয় সংসদে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের প্রস্তাবকারী।
ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী দাদা ভাই ১৯৩৪ সালের ১৫ আগস্ট মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা নুরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং মা চৌধুরী ফাতেমা বেগম। তার মা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় বোন। দাদাভাই এর শিক্ষা জীবন শুরু হয় দত্তপাড়ার টিএন একাডেমি থেকে। মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি পাশ করেন।
১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে কাজ করেন নিরলসভাবে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। একইসঙ্গে মুজিব বাহিনীর কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের ১৯ মে ৫ম জাতীয় সংসদের সদস্য থাকাকালীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এই মহান নেতা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
