বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত প্রয়াত ইউএনও’র দুই সন্তান!

আপডেট : ২০ মে ২০২২, ১০:০৪

এতিম শিশু দুটির প্রায় ৫০ কোটি টাকার পৈতৃক সম্পদ জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে থানায় একাধিক অভিযোগ হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

শিশু দুটির নাম শেরিন শিমরাহ শাবাহাত রাইম ও ছেলে শাফাকাত শুফাইক রোরি। প্রয়াত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরিদা দম্পতির সন্তান তারা। বাড়ি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের মামুদপুর গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুই সন্তান ও স্ত্রী রেখে মারা যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। পুত্রশোকে বছর ঘুরতেই ২০১৯ সালে মারা যান মা রাবেয়া বেগম। এর পর পরই বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী নিজ নামীয় প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ এতিম নাতি-নাতনিকে বঞ্চিত করে তিন মেয়ের নামে লিখে দেন। এছাড়া স্ত্রী রাবেয়ার নামে রেখে যাওয়া প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদও দখলে নেন।

এতিম শিশুর চাচাতো ভাই সোহেল মুন্না জানান, স্ত্রী রাবেয়ার মৃত্যুর পর থেকেই গ্রাম ছেড়ে রাজশাহীর বাড়িতে পাড়ি জমান ইউসুফ আলী। রাবেয়ার নামীয় মামুদ গ্রামের একটি বাড়ি, ৩০ বিঘার লিচুবাগান, উপজেলার যোগেন্দ্রনগরের ১৫ বিঘার ফসলি জমি, পৌর সদরের চাঁচকৈড় বাজারের গোদিঘর এবং নারিবাড়ীর মিল-চাতাল দেখভালের জন্য স্থানীয় সামসুল হককে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে রেখেছেন তিনি। এছাড়া ঢাকার একটি ফ্ল্যাট এবং রাজশাহীর একটি বাড়ি দখলে রেখে এতিম শিশু দুটিকে বঞ্চিত করছেন ইউসুফ আলী। মূলত তিন কন্যা নেপথ্যে থেকে ইউসুফ আলীকে দিয়ে এসব ভোগদখল করছেন। 

সোহেল আরও বলেন, এসব জমির মূল মালিক ইউসুফ আলীর মৃত স্ত্রী। প্রয়াত রাবেয়ার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রয়াত সন্তান শফিকুল ইসলামের দুই সন্তান এসব সম্পদের বেশির ভাগ অংশের বর্তমান মালিক (মৃত দাদির সম্পত্তি)। কিন্তু ইউসুফ আলী প্রয়াত স্ত্রীর সম্পদ ওয়ারিশ মোতাবেক বণ্টন না করে জবরদখল করছেন এবং তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে রাখা সামসুল হককে দিয়ে হামলা মামলা করাচ্ছেন। সপ্তাহখানেক আগে লিচু পাড়তে বাধা ও হুমকি দেন সামছুল হক, আলম আলী, আরমান, বাতেনসহ ১০-১২ জন।

তবে সামসুল হক এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রয়াত রাবেয়া বেগমের জমিজমার মালিক তিন কন্যা ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ইউসুফ আলীও। এ কারণে তিনি ইউসুফ আলীর নির্দেশে এসব জমি দেখভাল করেন।

ইউসুফ আলীর পুত্রবধূ পুলিশ কর্মকর্তা ফরিদা পারভিন জানান, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামী মারা গেছেন। এখন অবুঝ দুই সন্তান নিয়ে চাকরির কারণে তিনি ঢাকাতে থাকেন। শাশুড়ির রেখে যাওয়া সহায়-সম্পত্তির অংশীদার তাদের দুই সন্তান। অথচ শ্বশুর ইউসুফ আলী লোকবল দিয়ে শাশুড়ি রাবেয়ার জমিগুলোও দখল করে রেখেছেন। অংশীদার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি চাইলে শ্বশুর বলছেন—শিশু দুটির বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত তিন কন্যা এসব জমি দেখভাল করবেন। এখন পৈতৃক সম্পদের দখল না দেওয়ায় সন্তান দুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এসব বিষয়ে ইউসুফ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, স্ত্রী রাবেয়ার সম্পদ সময়মতো ওয়ারিশদের বুঝিয়ে দেবেন তিনি।

গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. আব্দুল মতিন ইত্তেফাককে বলেন, ইউসুফ আলী ও তার স্ত্রীর জমাজমি বণ্টন নিয়ে পারিবারিক অসন্তোষ চলছে। এ নিয়ে একাধিক অভিযোগও হয়েছে।

ইত্তেফাক/ ইআ