দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্র বা চিলিং পয়েন্ট না থাকায় সৈয়দপুরে ডেইরি খামারিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এতে তারা উৎপাদিত দুধ প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক সময় দুধ নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
খামারিরা জানান, প্রচুর দুধ উৎপাদন করেও বাজারজাত করতে পারছেন না তারা। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে এলেও দুগ্ধ শীতলীকরণের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তবে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোনাক্কা আলী বলেন, সরকার খামারিদের উন্নয়নে প্রণোদনা দেওয়াসহ অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিন হাতে পেয়েছি। শিগ্গিরই এটি খামারিদের বিতরণ করা হবে। এই মেশিনের সাহায্যে মিল্ক ক্রিম আলাদা করে বিভিন্ন জায়গায় বেশি দামে বিক্রি করা যাবে। এতে লাভবান হবেন খামারিরা।
জানা গেছে, উপজেলার প্রতিটি পাড়া ও মহল্লায় পাঁচ থেকে ২০টি ডেইরি খামার রয়েছে। বেসরকারিভাবে ঋণের মাধ্যমে গাভি পালনে এখানে পরিবারভিত্তিক সবাই খামার গড়ে তোলেন। কম-বেশি প্রতিটি খামার থেকে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১৫০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এতে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেন। স্থানীয়ভাবে প্রতি লিটার দুধ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামের মইনুল ইসলাম জানান, তিনি চারটি বিদেশি গাভি পালন করেন। প্রতিদিন খামারে দুধ উৎপাদন হয় ১৮ থেকে ২০ লিটার। গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে দুধ বিক্রি করে লোকসান হচ্ছে। গোলাহাট এলাকার খামারি মোশারফ বাবু জানান, তার খামারের ১৭টি গাভি থেকে প্রতিদিন ৬৫ লিটার দুধ উৎপাদন হয়।
স্থানীয় হাটবাজার, হোটেল ও বাসাবাড়িতে প্রতিদিন ১৫ হাজার লিটারের ওপর উৎপাদিত দুধ বিক্রি হয় না। লিটারপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে গাভি পালনের খরচ ওঠে না। এছাড়া উৎপাদিত দুধ বিক্রির স্নান না থাকায় প্রচুর দুধ নষ্ট হয়।
সৈয়দপুর উপজেলা ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইদ আজিজ বলেন, সৈয়দপুরে এখন প্রায় প্রতিটি ঘরেই গাভি পালন হচ্ছে। তাই এখানে একটি চিলিং পয়েন্ট স্থাপন এখন সময়ের দাবি। এটি গড়ে উঠলে আমরা দুধ সংরক্ষণ করে সৈয়দপুরের বাইরেও বিক্রি করতে পারব।
